‘মাজারে ২ নারীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়’

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৩৩ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার কাটাখালির ভিটিশীল মন্দির এলাকায় বারেকের ন্যাংটার মাজারে দুই নারীকে গলা কেটে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার জাহিদুল আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সদ্য ব্যবহার করা কনডম উদ্ধার করেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে।

আজ সকালের দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় দুই নারীকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করতে এসেছি। কারা ও কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এ ব্যাপারে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি।

নিহতদের মধ্যে একজন আমেনা বেগম (৬০)। তিনি মাজারের নারী খাদেম হিসেবে পরিচিত। আরেকজন তাইজুন খাতুন (৪৮)। তিনি ঢাকার বাসিন্দা। আমেনাকে তিনি খালা বলে ডাকতেন। গতকালই তিনি এখানে বেড়াতে এসেছিলেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাজারটি একটি টিনশেড ঘরের মধ্যে। সামনে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ‘হযরত শাহ সুলেমান লেংটা বাবার (পাগল) দিলু লেংটা’র মাজার। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বারেক ন্যাংটা’র মাজার হিসেবে পরিচিত। সাইনবোর্ডে মাজারের খাদেম হিসেবে ‘মাসুদ লেংটা’র নাম উল্লেখ রয়েছে।  

মাজারের খাদেম মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, গতকাল রাত ৯টার দিকে তিনি মাজার থেকে বাড়ি যান। তখন আমেনা ও তাইজুন রাতে এক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাদের ডাকতে এসে তিনি গলা কাটা লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেন।

তিনি আরো জানান, আমেনার স্বামী বারেকের নামেই এই মাজার চলছে। আমেনা এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। আমেনা ৩০ বছর ধরে এই মাজারে আছেন। তার গ্রামের বাড়ি পাশের গুয়াগাইচ্ছা গ্রামে। আমেনার ছেলেমেয়ে রয়েছে। তাদের খবর দেওয়া হয়েছে।

কাউকে সন্দেহ করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খাদেম মাসুদ জানান, তিনি কিছু বুঝতে পারছেন না।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে