উখিয়ায় ৪ দিনে ১৮শ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত

  উখিয়া প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত জায়গা রেখে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। কেননা, নিবন্ধন সম্পর্কে কোন ধারণা নেই সাধারণ রোহিঙ্গাদের। এদিকে নিবন্ধন শুরু হয়েছে, কোথায় হচ্ছে -তা কিছুই জানেন না তারা। উখিয়া-টেকনাফ সড়কের দু’পাশ সহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে বা নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার দুপুরে কুতুপালং ক্যাম্পে চারটি বুথে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন কাজ চলছে। আঙ্গুলের ছাপ, ছবি তোলা ও তথ্য সংরক্ষণ করতে একেকজন রোহিঙ্গার জন্য গড়ে তিন থেকে চার মিনিট সময় প্রয়োজন। ধীরগতির কারণেও নিবন্ধনে আগ্রহ হারাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কুতুপালং ও নয়াপাড়ায়  মাত্র ১৮০০ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিবন্ধন করতে কতদিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন।

আজু মেহের নামে এক রোহিঙ্গা নারী নিবন্ধন করতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। নিবন্ধন সম্পর্কে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন সবাই করতে এসেছে, তাই আমিও এসেছি। অনেকেরই ধারণা, নিবন্ধন করলে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। আবার অনেকে নানা প্রশ্ন করছে এসব করে কি হবে। সবার আগের আমাদের জন্য জরুরী থাকার ব্যবস্থা, খাবার, নিরাপদ পানি ও পরিবেশ সম্মত টয়লেট। যেখানে বেঁচে থাকা দায় হয়ে গেছে সেখানে নিবন্ধন করে কি হবে এমনটিও প্রশ্ন করছে অনেকে।

নিবন্ধনের চেয়ে রোহিঙ্গারা এখন খাবারের দিকে বেশি ছুটছেন। তারা সারাদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। কোনও ত্রাণবাহী গাড়ী আসলেই তারা সেই গাড়ির দিকে নারী-পুরুষ সকলের দৌড়ঝাপ বেশ লক্ষ্যণীয়। গাদাগাদি করে ত্রাণ নিতে বাদ যায় না শিশুরাও।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম লুৎফর রহমান বলেন, ২০/২২টি বুথে নিবন্ধন কার্যক্রম চালানো কথা থাকলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ২টি বুথে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। নিবন্ধন কার্যক্রম কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে করা হচ্ছে শুধু। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অন্যান্য ক্যাম্প গুলোতে কাজ চলছে না। এসবের ব্যবস্থা করতে আমাদের আরও ৭/৮ দিন সময় লাগবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পেও রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন শুরু হয়েছে। তবে যে সফরটওয়্যারে নিবন্ধন করা হচ্ছে, সেটাতে সামান্য ত্রুটি থাকায় সফটওয়্যারটি আপডেট করার কথা জানিয়েছেন অপারেটররা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর যৌথ উদ্যোগে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মো: রেজা।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী এই অভিযানে অন্তত তিন হাজার রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় মারা গেছেন আরও শতাধিক। ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

স্থানীয় এনজিও সংস্থা হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম এর মতে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার পরিমাণ ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে