২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রকাশ | ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ২০:২৯ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর মুগদা, শনিরআখড়া, কমলাপুর, বনানী ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন রফিকুল ইসলাম (১৭), নুর ইসলাম (২৭) সাগর (৪৮), ফরিদ মিয়া (৪০) ও ২৫ এবং ৪৫ বছরের অচেনা দুই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।

মুগদায় দুর্ঘটনার শিকার রফিকুলের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের বাবা মিন্টু মিয়া পেশায় রিকশাচালক। মান্ডার ৭৯ পেয়ার আলীর গলিতে শরিফ আহমেদের বাড়িতে ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রফিকুল।  স্থানীয় নোমান টেইলার্সে কাজ করতো তার ভাই। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে মুগদার গ্রীন টাউন এলাকার বালুর মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায় রফিকুল। খেলার সময় আম্পায়ার হিসেব মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। এসময় সজোরে ক্রিকেট বল এসে তার বুকে লাগলে অচেতন হয়ে পড়ে রফিকুল। সেখান থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মহাখালী রেলগেট থেকে ২০০ গজ দেিণ সিলেট থেকে কমলাপুরগামী একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ৪৫ বছর বয়সী অচেনা এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এদিন সকাল ১১টার দিকে কমলাপুর ৩ নম্বর প্লাটফর্ম সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় ২৫ বছর বয়সী অচেনা এক যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফরিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়রা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোররাতে মারা যান তিনি। ফরিদ মিয়া নেত্রকোনা দুর্গাপুর উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে। অচেনা ২ জনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও ওসি জানান।

যাত্রাবাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার নুর ইসলামের সহকর্মী ইউনুছ মিয়া জানান, গতকাল সকাল থেকে শনির আখড়া বাঁশপট্টি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন তারা। সকাল ১০টার দিকে নির্মাণাধীন ৬তলা ভবনের ৩তলার বাইরের দিকের মাঁচা খুলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে স্পৃষ্ট হয়ে নীচে পড়ে যান নুর ইসলাম। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক  নুর ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবার নাম লাল মিয়া। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলিপুরায়। তিনি সপরিবারে যাত্রাবাড়ি শনিরআখড়া গোবিন্দপুর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

বনানী থানার এসআই শাহীন মিয়া জানান, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বনানী রেলস্টেশনের সামনে অচেনা একটি যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান সাগর। সাগর ওই এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকতেন এবং পুরাতন বোতল, কাগজ কুড়িয়ে তা বিক্রি করতেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যু প্রকৃত কারণ জানা যাবে।