গুড় ভেবে রাসায়নিক পদার্থ পান, নিহত ২

  নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:২৪ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীতে গুড় ভেবে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পান করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১০ জন অসুস্থ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের মৃত্যু হয়। অসুস্থ ১০ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর ডাইংপাড়া গ্রামে।

নিহতরা হলেন- গ্রামের মৃত তোফিজুল ইসলামের ছেলে বকুল হোসেন (৩৮) এবং ইউসুফ আলীর ছেলে তোহিদুল ইসলাম (২৫)।

গোদাগাড়ী থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি জানান, চব্বিশনগর ডাইংপাড়া গ্রামের ৮ জন ব্যক্তি রাজশাহী মহানগরীর সপুরায় ‘টিম’ নামের একটি ওষুধের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। গত মঙ্গলবার তারা ওই কারখানায় কাজে গিয়ে সেখানে একটি ড্রামে থাকা একটি রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে রুটি খান। এ সময় ভালো লাগায় একজন ওই পদার্থটি একটি বোতলে ভরে কিছু পরিমাণ গ্রামেও নিয়ে যান। এরপর রাতে তিনি গ্রামের আরও চার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে রাসায়নিক পান করেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওসি আরও জানান, ভোররাতের দিকে তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে তাদের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিরা হাসপাতালেই ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলু বলেন, গ্রামের অন্তত ১০ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে তিনি চব্বিশনগর ডাইংপাড়া গ্রামে গেছেন। সেখান থেকে তিনি একটি বোতল জব্দ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। গন্ধ শুকে তার কাছে মনে হয়েছে, ওই বোতলে রেকটিফায়েড স্পিরিট ছিল।

তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন গোদাগাড়ীর ওসি হিপজুর আলম মুন্সি। তিনি বলেন, রাসায়নিক পদার্থটি লালি গুড়ের মতো। গুড় ভেবেই তারা সেটি কারখানায় রুটির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়েছিলেন। তবে গ্রামে নেওয়ার পর তা আবার কোমল পানীয়র সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া হয়। ওই রাসায়নিক আসলে কি তা তারা ওষুধের কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছেন।

ওসি আরও জানান, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মৃত দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে রামেকের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে