প্রশ্ন ফাঁসে লাখপতি ঢাবি শিক্ষার্থী!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ নভেম্বর ২০১৭, ২১:০৭ | আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নাভিদ আনজুম ওরফে তনয়(২৪)। তার সহযোগিতা ও জুনিয়র বন্ধু এনামুল হক ওরফে আকাশ (১৯)। গত তিন বছরে প্রায় লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন বাতাসে। বাতাস বলার কারণ তারা যে পন্থায় এই টাকাগুলো উপার্জন করেছে তা মোটেও সাধারণ নয়। এই টাকা কামাই করতে তারা করেছে অপরাধ যা তাদের সঙ্গে আরও কজনকেও আইনের কাছে নত করেছে।

তনয় বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র হলেও পড়ালেখার ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন, তবে অবৈধ পথে টাকা কামানোর অপেক্ষায় থাকতেন যখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা সময় আসতো। অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে পরীক্ষার্থীদের উত্তর জানিয়ে একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করতেন তিনি। এই কাজের তার রাইট হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতেন এনামুল।

এদের দুজনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন মো. বায়জিদ, তানভীর আহমেদ মল্লিক, নাহিদ ইফতেখার, প্রসেনজিৎ দাস, ফারদিন আহমেদ সাব্বির, রিফাত হোসাইন ও আজিজুল হাকিম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে প্রক্টোরিয়াল টিমের সাহাজ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে এই সাতজনকে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অমর একুশে হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহীউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়। আদালতে রানা ও মামুনের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহ ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মূল হোতা হিসেবে তনয়ের নাম আসে। ওই স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে ১ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁও থেকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিকে আটক করা হয়। নাফির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের আরেক হোতা আনিনকে। সহযোগীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে গা ঢাকা দেন তনয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ নভেম্বর রংপুরের কামাল কাছনা বাজার এলাকা থেকে তনয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদে ডিজিটাল জালিয়াতির তথ্য জানান তনয়। জিজ্ঞাসাবাদে ২০১৫ সাল এবং ২০১৬ সালে টাকার বিনিময়ে ডিজিটাল ডিভাইস এবং পরীক্ষার আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে অবৈধ উপায়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সহায়তা করেছেন। তিনি ও আকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে উত্তর বলে দিতেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে