নরসিংদীতে ৮ মাসের শিশু হত্যা

  নরসিংদী প্রতিনিধি

২১ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীতে মাহিন নামের আট মাসের এক শিশুকে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড বাবা। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা আপন মিয়া পলাতক। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে রায়পুরা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত শিশুটির মা মারুফা আক্তার অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী আপন মিয়া সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে সদর উপজেলার আলোকবালীর বাখারনগর এলাকার আপনের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নবীনগরের বড়াই এলাকার মারুফার বিয়ে হয়। এরপর থেকে প্রায়ই আপন তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। এ কারণে মারুফা তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত ঈদের কিছুদিন আগে মারুফাকে তার শ্বশুর তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। এদিকে আপন কিছুদিন বিদেশে থেকে দেশে ফিরে ধীরে ধীরে তিনি মাদকসেবী হয়ে ওঠেন। মাদকের কারণেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। আর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার কারণেই প্রাণ দিতে হলো অবুঝ শিশুকে।

নিহতের মা মারুফা আক্তার বলেন, গত ২০১৬ সালে জুলাই মাসের ১৫ তারিখে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শশুরবাড়ির লোকজন তাকে নিযার্তন করত। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে নবীনগর বড়াই গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যান। গত রোববার শ্বশুর বাবার বাড়ি থেকে তাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার রাতে তাকে (আপন) বলেছি, তুমি কাজকর্ম না করলে বাবুকে কী খাওয়াব, এই ছিল আমার কথা। আমি বাইরের কাজ শেষে ঘরে গিয়ে দেখি, আমার স্বামী আর দেবর কেউই ঘরে নেই। আর আমার বাচ্চাটার রক্তাক্ত দেহ বিছানায় পড়ে রয়েছে। কী দোষ ছিল আমার অবুঝ বাচ্চাটার? তাকে কেন এমনভাবে মারল আমার স্বামী? তার তো কোনো দোষ ছিল না। আমার অবুঝ বাচ্চাটাকে যে এভাবে খুন করেছে আমি তার বিচার চাই।

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বলেন, স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ার কারণে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মা সরাসরি বলছেন, তার স্বামী সন্তানকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এই ঘটনায় জিঞ্জাসাবাদের জন্য নিহতের চাচা ও দাদাকে আটক করেছি।

শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের শেষে লাশ মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়াধীন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে