প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি, ৯ আসামির জামিন

  আদালত প্রতিবেদক

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:১২ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির মামলায় কারাগারে থাকা বিমানের নয় কর্মকর্তার জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ শুভ ও কায়সারুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিনের এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামীউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএম সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন ও মেকানিক শাহ-আলম।

মামলার অপর আসামি নাজমুল হক হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। এছাড়া আসামি সিদ্দিকুর রহমানের জামিনের আবেদন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় থাকায় তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়নি।

এদিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিব মামলাটিতে পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদন সনাক্ত করে বিচারিক আদালতে বদলির জন্য সিএমএমের দপ্তরে নথি পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মাহবুব আলম মামলাটির ১১ আসামিকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারা  ও দণ্ডবিধির ১১৮ ও ১২০ (খ) ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দেন।

তবে আসামি সিদ্দিকুর রহমান, নাজমুল হক ও শাহআলমের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের যন্ত্রপাতি সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ মনোভাব থাকায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৮৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন।

২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর  বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটি প্রধানমন্ত্রীর বুদাপেস্ট সফরের জন্য ঠিক করা হয়। আসামিরা বাংলাদেশ বিমানের প্রকৌশল বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা। তাদের ওপর ওই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। আসামিরা গত ২৬ নভেম্বর উড়োজাহাজটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উড়োজাহাজ গত ২৭ নভেম্বর সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। উড়োজাহাজটি অনুমানিক দুই ঘণ্টা ২৮ মিনিট প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উড়ার পর পাইলট ইঞ্জিনে তেল কমার লক্ষণ দেখতে পান। আর ৩০ মিনিট পর পাইলট ইঞ্জিনের তেলের চাপ আরও কমার লক্ষণ দেখতে পান। এরপর বাংলাদেশ সময় ১টা ৫৮ মিনিটে ইঞ্জিনে তেলের চাপ লিমিটের নিচে নেমে আসায় উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই তুর্কমিনিস্তান রাজধানীতে পাইলট অবতরণ করতে বাধ্য হন। এরপর বাম পাশের ইঞ্জিনের কাইরলং খোলা হলে ওয়েল প্রেসারের বি-নাট ঢিলা পাওয়া যায়। পরে তা মেরামত করে প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজেই বুদাপেস্ট যান। ওই ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ গত ২৮ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে আসামিদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং ব্যর্থতা উঠে আসে। এরপর ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে দণ্ডবিধির ১০৯/১১৮/১২০(খ)/২৮৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ধারায় বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে