তাবিথকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বিএনপি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন তাবিথ আউয়ালকেই দেওয়া হচ্ছে বলে দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছে। তারা জানান, তাবিথকে দলের মনোনয়ন দেওয়ার আগে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ শনিবার বেলা ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যমানে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টনের কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ জমা নেয়া হবে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত। পরে রাত সাড়ে ৮ টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড এই সাক্ষাৎকার গ্রহন করবেন। মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে একজন প্রার্থীকে  মেয়র পদে মনোনয়ন  দেবেন এবং তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। আমরা আশা করছি, মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারের পর চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাত থেকে সর্বশেষ বেলা আড়াইটায় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময়ে দলের যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সহপ্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান (রঞ্জন)। একমাত্র ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যা মামলার আসামী ঢাকা উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুমের পক্ষে মনোনয়নপত্র কেনেন তার প্রতিনিধি উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এ জি এম শামসুল হক।

তাবিথ আউয়াল দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে নয়াপল্টনের দলের মহানগর কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপির কার্যলয়ে উত্তরের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিক, ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীকে বিজয়ই করতে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।     

তার আগে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, আমি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। আমি আশাবাদী বিএনপির মনোনয়ন আমি পাবো। কারণ এই নির্বাচনের প্রথম পর্ব আমাকে সমর্থন দিয়েছিলো। ওই সময়ে দল সন্তুষ্ট হয়েছে আমরা নির্বাচন কর্মকাণ্ড দেখে। এবারো আমি আশাবাদী। দল যাকে প্রার্থী করবে শুধু আমি একা নয়, আমরা সবাই মিলিতভাবে এই নির্বাচনে ওই প্রার্থীর জন্য কাজ করবো।

ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অবিভক্ত ঢাকা নগর থাকতেই আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলাম। ঢাকা বিভক্ত হওয়ার পরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আমার বরাবরই আগ্রহ ছিলো বলেই এবার আমি দলীয় মনোনয়নের জন্য ফরম কিনেছি। আমার লেখা-পড়া, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক পরিচয়-যোগ্যতা-সাহস-ত্যাগ-তীতিক্ষা সব কিছুই মিলে পার্টি বিবেচনা করবেন এটাই আমরা দৃঢ় প্রত্যাশা।

আখতারুজ্জামান বলেন, আমি মনে করি, ২০১৮ সাল পরিবর্তনের বছর। পরিবর্তন হবেই। এই পরিবর্তন হবে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। সেজন্য আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনেছি। চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেলেও এক‘শ ভাগ যিনি পাবেন তার পক্ষে কাজ করবো। ম্যাডামের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

শাকিল ওয়াহেদ বলেন, আমি ঢাকা উত্তরকে বিশ্বমানের নগরীতে পরিণত করতে এই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছি। আমার যোগ্যতা, দলের প্রতি আমার দীর্ঘদিনের কমিটেমেন্ট-অভিজ্ঞতা ইত্যাদির মান বিবেচনা করে আমরা ধারনা আমার সম্ভাবনা ভালোই।

বিদেশে থাকা এম এ কাইয়ুমের পক্ষে উত্তরের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুল বাসিত আনজু ও এ জি এম শামসুল হক সাংবাদিকদের কাছে কোনো কথা বলেননি। শুধু নেতা-কর্মীদের নিয়ে তারা বিজয় চিহ্ন ‘ভি’ দেখিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য এই মেয়র পদে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আনিসুল হক বিজয়ী হয়েছিলেন। সেবার বিএনপির সমর্থনে তাবিথ আউয়াল মেয়রপ্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট শুরুর ৪ ঘন্টার মধ্যে তা বর্জন করেন। এরপরও তাবিথ সেবার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট পেয়ে সবার নজর কাড়ে।  

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে