‘আইজ তোরে মাইরাই ফ্যালামু’

  খালিদ সাইফুল্লাহ

০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

সিএনজি থেকে ছিটকে পড়া অবস্থায় প্রবাসি ইমরান। ছবি- আল আমিন লিয়ন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় এক সিএনজি। এ ঘটনার পর সেই মোটরসাইকেলের চালক সিএনজি চালককে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান এবং গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে বলেন। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে তার ওপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। জীবন বাঁচাতে তখন মোটরসাইকেলের চালক গ্রিল ধরে ঝুলে পড়েন। ভাগ্যক্রমে সেই মোটরসাইকেল চালক আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

গতকাল বুধবার বিকালে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাব হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই মোটরসাইকেল চালকের নাম ইমরান সিদ্দিকী (৩৫)। তিনি আমেরিকা প্রবাসি। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন দৈনিক আমাদের সময়ের আলোকচিত্রী আল আমিন লিয়ন। সে সময় তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘটনার কিছু ছবি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এ প্রতিবেদনটি তৈরিতে তিনি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।

সিএনজি ধরে ঝুলছেন ইমরান। ছবি- আল আমিন লিয়ন।

দুর্ঘটনার শিকার ইমরান সিদ্দিকী আমাদের সময়কে জানান, সম্প্রতি তিনি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন। তার স্ত্রী এবং সন্তানকে আমেরিকায় নিতে প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহের জন্য গতকাল নগরভবনে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাব হোটেলে খাবার খেতে তিনি গাড়ি পার্কিং করতে যান; সে সময় একটি সিএনজি পেছন থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি পড়ে গেলেও তেমন আহত হননি। পরে সিএনজির সামনে গিয়ে চালককে নেমে আসতে বলতেই চালক দ্রুত গতিতে সিএনজি নিয়ে টান দেন। জীবন বাঁচাতে তখন তিনি সিএনজির গ্রিল ধরেন।

প্রবাসি ইমরান বলেন, আমি চালককে আকুতি করে বলতে থাকি, ‘ভাই আমি মারা যাবো, প্লিজ গাড়িটা থামান, আমি নেমে যাই।’ তখন চালক বলে- "তোরে আইজ মাইরাই ফ্যালামু।" এ বলে চালক গাড়ি ডানে-বামে ঘুরিয়ে আমাকে অন্য গাড়ির সাথে চাপা দিতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে এক পর্যায়ে আমি লাফ দিয়ে রাস্তায় পড়ে যাই।

সিএনজিকে ধাওয়া করে আটকানোর চেষ্টা করছেন মফিজুল ইসলাম (লালবৃত্ত চিহ্নিত সাদা টি শার্ট পরিহিত), সিএনজি থেকে ছিটকে পড়ে আছেন ইমরান।  ছবি- আল আমিন লিয়ন।

তিনি জানান, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা পেছন থেকে অন্য এক মোটরসাইকেল চালক (মফিজুল ইসলাম) দেখেন। তিনি সিএনজির পিছু নিয়ে তেজগাঁও কলেজের সামনে পুলিশের সহায়তায় সিএনজিটিকে আটক করেন। কিন্তু পুলিশের হাত গলে ওই চালক উধাও হয়ে যায়!

ইমরান বলেন, আমি গুরুতর আহত হওয়ায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাই। বাম পাঁজরে মারাত্মক আঘাত পাওয়ায় পুলিশের কাছে যেতে পারিনি। কয়েকদিনের জন্য দেশে এসেছি, এর মধ্যে এ ধরনের ঝামেলায় না জড়ানোর জন্য পরিবার থেকে আইনি পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মফিজুল ইসলাম বলেন, তেজগাঁও কলেজের সামনে সিএনজিটিকে আটক করে সেখানে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ও এক ট্র্যাফিক পুলিশে ধরিয়ে দিই। পরে আমি আহত সেই মোটরসাইকেল চালককে উদ্ধার করতে কারওয়ান বাজারে যায়। তাকে নিয়ে আবার তেজগাঁও কলেজের সামনে এলে দেখি সিএনজি আছে কিন্তু চালক পালিয়ে গেছে। পরে সেই সার্জেন্টকে চালকের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ভিআইপি গাড়ি আসায় তা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় চালক সবার অগোচরে পালিয়ে গেছে।

আহত ইমরানকে কারওয়ান বাজার থেকে নিয়ে আটককৃত সিএনজির কাছে। ছবি- আল আমিন লিয়ন।

তবে তিনি সেই কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্টের নাম জানাতে পারেননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে