অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় গোয়াইনঘাটের পর্যটন শিল্প

  গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের ভান্ডার সিলেটের গোয়াইনঘাট। উপজেলা জুড়েই রয়েছে দেশের খ্যাতিমান দৃষ্টিনন্দিত পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্র। সম্প্রতি শুধুমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভাটায় পড়েছে এ বিশাল পর্যটক খাত। ভোগান্তির কারণে স্পটগুলোতে আসা বন্ধ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক। রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্টান পর্যটন কর্পোরেশনও।

বছরজুড়ে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় মূখর থাকতো কেন্দ্রগুলো। ভ্রমন পিপাসুদের ভিড় দেখে গড়ে উঠে শতাধিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট। যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকায় কেন্দ্রগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মানুষ। পর্যটক শূণ্য হয়ে পড়েছে স্পটগুলো। এতে বিপাকে পড়েছে পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দ। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন প্রকৃতিকন্যা জাফলং। কিন্তু মামার বাজার থেকে  পর্যটক স্পট বল্লাঘাট জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৭০০ মিটার রাস্তা যেতে হয় কাঁদা জল মাড়িয়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষজনের চলা ফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শীত মৌসুমে এই মহাসড়ক পরিনত হয় ধূলোর রাজ্যে।

একই অবস্থা দৃষ্টিনন্দিত পর্যটনকেন্দ্র বিসনাকান্দি। হাদারপার বাজার থেকে পর্যটক স্পট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার সিংহ ভাগ জুড়েই খানা-খন্দে ভরপুর। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তী পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণ ও পর্যটকদের। অপর দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় রাতারগুল ও মায়া বন যেতে হয় নৌকাযোগে। সেখানে গিয়েও পর্যটকদের জিম্মি হতে হয় ভাড়ায় চলিত নৌকার মাঝিদের কাছে। গত প্রায় ৫ বছরেরও অধিক সময় থেকে বেহাল দশায় পড়ে থাকা রাস্তাগুলো সংস্কার কাজে দায়বদ্ধতা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ২০১৬ সাল ছিলো সরকার ঘোষিত পর্যটক বর্ষ।

প্রায় দেড় বছর গড়িয়ে গেলেও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ফলে উল্টো হুমকিতে পড়েছে সম্ভাবনাময় এ পর্যটন শিল্প। ঢাকা থেকে জাফলং ভ্রমণে আসা আয়নাল মিয়া, জামাল আহমদ ও রনি জানান, এখানে প্রকৃতি পরিবেশ মনোমুগ্ধকর খুব ভাল লাগলো। তবে মামার বাজার থেকে স্পটে গাড়ি নিয়ে আসা যায় না। কাঁদা জল মাড়িয়ে আমাদের পায়ে হেটে আসতে হয়েছে এখানে।

কর্পোরেশন জাফলং পর্যটন মোটেল’র ম্যানেজার মো. ইসমাইল আলী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা কারণে পর্যটক শূণ্য হতে চলছে জাফলং। এর প্রভাবে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি প্রতিষ্টানটি।

সিলেটের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সনান্ত জানান, মামার বাজার থেকে বল্লাঘাট ৭০০ মিটার ও বিসনাকান্দি স্পটের রাস্তাগুলো আমাদের আওতায় না। রাস্তাগুলো আমাদের আওতায় দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। আশাকরি আগামী বছর আমরা এগুলোর কাজ করতে পারবো।

 

 

 


    

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে