করতোয়ার প্রাণ ফেরাতে ২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প

  প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া

২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:০৮ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

করতোয়া নদীর প্রাণ ফেরাতে ২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এটি অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে করতোয়া নদীর পুনঃখনন কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে করতোয়া নদী। পানি প্রবাহের মাধ্যমে স্রোতধারা ফিরিয়ে আনতে মরা করতোয়াকে জীবিত করতে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ কিলোমিটার করতোয়া নদী পুনঃখনন প্রকল্প তৈরি করেছে।

জানা গেছে, করতোয়ার নদীর উজানে বগুড়া থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খলসীতে প্রমত্তা করতোয়ার পূর্ব দিকে কাঁটাখালী সেতু হয়ে বাঙ্গালী নদীর মিলনস্থলে। মূল নদীর আনুমানিক ১০০ গজ দেিণ পাউবোর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্লুইচ গেট। স্লুইচ গেটের দণি পাশ থেকেই ১১৬ কিলোমিটার করতোয়ার বগুড়া অংশের শুরু। আর উত্তর পাশে মূল নদীর সঙ্গে সংযোগস্থল। সংযোগস্থলে বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়া হয়েছে। পাশে নির্মিত স্লুইচ গেট দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ আরেক দফা আটকে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ, কামারদহ, কোঁচাশহরসহ ভাটি অঞ্চলকে বন্যা থেকে রার নামে ১৯৮৯ সালের দিকে স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়। এটি সারা বছরই বন্ধ থাকে। ফলে ভাটির দিকে পানি প্রবাহিত হতে পারে না। দীর্ঘ কয়েক যুগ করতোয়া নদীর পানি প্রবাহ না থাকার ফলে পানিশূণ্য হয়ে পড়লে নদীর আশপাশের অনেক জমি অবৈধভাবে দখল হতে থাকে। দখলের প্রভাবে ধীরে ধীরে নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। এবং পরবর্তীসময়ে নদীর অনেক অংশে দখলের প্রতিযোগিতায় পড়ে তা ড্রেনে রুপান্তরিত হয়েছে। ফলে দখলে-দূষণে করতোয়া নদী নামের খালটি পরিবেশ দূষণের ভয়ঙ্কর দানবে পরিণত হয়েছে। আর ওই সব স্থানে দেখলে মনে হবে করতোয়া একটি অপরিচ্ছন্ন দূষিত পরিবেশ যুক্ত একটি ড্রেন ছাড়া আর কিছুই না।

এ জন্যই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) করতোয়া নদীর পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার  মাদলা থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের খুলশি পর্যন্ত মোট ৯৬ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে তিনটি রেগুলেটর, একটি রাবার ড্যাম ও ৮ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করার কাজ রয়েছে। পাশাপাশি নদীর উভয় তীর ঘেঁষে মানুষের পায়ে চলার পথ নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে এ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তিনটি রেগুরেটরের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জের খুলশিতে একটি, বগুড়ার শিবগঞ্জ হাটের কাছে একটি এবং বগুড়া শহরের সুবিল খালের কাছে যেখানে করতোয়া নদীর সংযোগ হয়েছে সেখানে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হবে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা সেতুর কাছে একটি।

করতোয়া নদী পুনঃখনন ছাড়াও এর উভয় পাশে তীর সংরক্ষণ করে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার পায়ে চলার পথ তৈরি করা হবে। যাতে নদীর তীর ভেঙে না যায় এবং সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচলসহ নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে দেড় কিলোমিটার সড়ক এবং বগুড়া শহরের সাড়ে ৩ কিলোমিটার করে উভয় তীরে মোট ৭ কিলোমিটার পায়ে চলার পথ নির্মাণ করা হবে।

করতোয়া নদীর পুনঃখনন সম্পর্কে বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে যাবে। একনেকে অনুমোদন মিললেই সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করা সম্ভব।

তিনি বলেন, করতোয়া নদীর পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে, মরা এ নদীটি পুনজ্জীবিত হবে। নাব্যতা ফিরে পেলে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে এ অঞ্চলের মানুষ রক্ষা পাবে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে। নদীর আশপাশের কৃষকদের সেচ নির্ভরতা কমে আসবে এবং কৃষির উৎপাদন খরচও অনেকটা সাশ্রয় হবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্য আহরণ, সর্বোপরি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হবে।

 

 

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে