অনিশ্চয়তায় শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

১৮ মে ২০১৭, ১৮:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী মহানগরীর বেসরকারি শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন না থাকার পরও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং তাদের পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে কলেজ তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ পরিচালনায় অনিয়ম পাওয়ায় তাদের অনুমোদন স্থগিত করেছে। এতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ৫০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশুনা।

এদিকে প্রায় ১০-১২ লক্ষ টাকা করে দিয়ে ভর্তির পর পরীক্ষা দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজটির মূল ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বুধবার বিকালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিবেদককে বলেন, গত দুবছর ধরে পড়াশুনা করছি। পরীক্ষার যাবতীয় কার্যাবলীও যথাযথভাবে পূরণও করেছি। আগামী ২০ মে থেকে পরীক্ষা, সে বিষয়ে মানসিকভাবে সকল প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে শুনি আমাদের পরীক্ষা হবে না। কলেজের নাকি অনুমোদনই নেই। এখন আমাদের পড়াশুনাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এই কলেজটির পরিদর্শক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস বলেন, এর আগে তারা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে কলেজ চালু করে। কিন্তু মন্ত্রণালয় পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের পরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। সে নিয়ম না মেনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করায় এর আগেই কলেজের অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছিলো। পরে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত কার্যক্রম অনুমোদন করে। তবে জরিমানার টাকা এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করেনি। এছাড়া তাদের নির্ধারিত আসন সংখ্যা ছিলো ২৫টি। কিন্তু ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদন না নিয়েই তারা ভর্তি করিয়েছে ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী। আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়ে এসব বিষয় পেয়েছি, সাথে সাথেই রিপোর্ট দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, এরপর যখন নতুন উপাচার্য আসেন, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৫০ জনের পরীক্ষার অনুমতি প্রার্থনা করে দরখাস্ত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আমাদের মিটিং হয়। সেই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মানবিক দিক বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু নীতি বিরোধ ঘটিয়ে এই সেমিস্টারে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। বরং আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের সেমিস্টারে তাদের পরীক্ষা হবে।

আগামী ২০ মে থেকে পরীক্ষা দেবার দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে দেখাও করতে যান। এসময় উপাচার্য কলেজ পরিদর্শক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের সাথে কথা বলেন। পরে কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস পরীক্ষা না হওয়ার ঘোষণা দিলে শিক্ষার্থীরা কেঁদে ফেলেন এবং একজন অভিভাবক বিধান চন্দ্র দাসের পা জড়িয়ে ধরে পরীক্ষা গ্রহণের আবেদন জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে এই কলেজটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর অনুমোদন নিলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অনুমোদন নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে শুরুতেই তাদের অনিয়মের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্থগিতাদেশ দেয়ায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ (তানোর- গোদাগাড়ী) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে তার অফিসে গিয়ে লাঞ্ছিত করেন। পরে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, কলেজ কার্যক্রমে অনিয়মের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিনিময়ে তাদের কার্যক্রমে অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১৩-২০১৪ এবং ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত তাদের অনুমোদন দেয়া হয়।

অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস আরো জানান, পুনরায় অনুমোদন নবায়ন না করেই ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এর আগে ২৫টি আসনের অনুমোদন থাকলেও তারা এই শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করান কলেজ কর্তৃপক্ষ। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শক দল তাদের কার্যক্রমের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়। এমনকি অনুমোদন এমন অবস্থায় থাকার পরও শুনেছি তারা ২০৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থী ভর্তি করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাবির প্রশাসন ভবনে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা ভুক্তভোগী। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয় এটি। আমরা তো কোন দোষ করিনি। দু’বছর ধরে পড়াশুনা করছি। প্রস্তুতি নিয়েছি আগামী ২০ মে থেকে পরীক্ষা দেবার। কিন্তু হঠাৎ শুনছি পরীক্ষা হবে না। আমরা কি করবো। তারা নভেম্বরের কথা বলছেন, নভেম্বরেও যে পরীক্ষা হবে তার গ্যারান্টি কি?

এ বিষয়ে শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনিরুজ্জামান স্বাধীন বলেন, মাঝখানে দুইমাস রাবিতে উপাচার্য না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে