প্রেমের সর্ম্পক্যে চিড়, প্রেমিকার সামনেই প্রাণ দিল প্রেমিক

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ডিএনসিসি কর্মী, স্কুলছাত্রসহ প্রাণ গেল আরও ৩ জনের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০১৭, ১০:২১ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

নিহত তুষারের মরদেহ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, উত্তরা ও আজিমপুরে পৃথক ঘটনায় ৪ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মো. মাসুদ আহমেদ (৪০), তুষার (২৬), স্কুল ছাত্র রাকিবুল হাসান রায়হান (১৪) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হায়াতুন্নেছা (৪৭)। শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।   

মৃত তুষারের চাচাতো ভাই অতুল জানান, তুষারের বাবার নাম আসলাম হোসেন। সপরিবারে তিনি যাত্রাবাড়ীর করাতিটোলা এলাকার ৫৫ নম্বর নিজ বাড়িতে থাকতেন। করাতিটোলা এলাকায় এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন তুষার। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে অবনিবনা চলছিলো।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অতুল আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে প্রেমিকার তিন তলা ভবনের ছাদে যান তুষার। এসময় সেখানে তার প্রেমিকা ও আরও একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। তুষারের অবস্থান জানার জন্য সেসময় তার সেলফোনে কল দেন অতুল। এসময় তুষার বলে, ‘তোর ভাবি আমাকে শেষ করে দিল। মুহূর্তের মধ্যে মেয়েটি তুষারের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে অতুলকে বলেন, ‘তুমি এসে দেখে যাও, তোমার ভাই পাগলামি করছে।’ এ কথা শুনে অতুল তড়িৎবেগে ওই বাসার ছাদে গিয়ে দেখেন বাসার ছাদের পাশঘেঁষে যাওয়া শক্তিশালী বৈদ্যুতিক তার দু’হাত দিয়ে ধরে রেখেছে তুষার; আর তার শরীরে আগুন জ্বলছে। ওই অবস্থায় একপর্যায়ে তিন তলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে যায় তুষার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই তাকে ঢামেক হাসপাতালের নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুষারকে মৃত ঘোষণা করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কামাল হোসেন জানান, মাসুদ আহমেদের বাবার নাম মৃত আব্দুল হামিদ। গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ উপজেলার জালাল সাহেবে। বৃহষ্পতিবার রাতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের বিপরীত পার্শ্বে  রাস্তার উপর অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে ঢামেক হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে মাসুদ আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। তবে অন্য কোন কারণে তিনি মারা গেছেন কি না ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হায়াতুন্নেছার স্বামীর নাম জায়েদ আলী। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংয়ের কোতয়ালিতে। সপরিবারে টঙ্গী স্টেশনরোড এলাকায় থাকতেন তিনি। গতকাল সকাল ৮টার দিকে উত্তরা ১ নম্বর সেকশনের জসিমউদ্দিন রোডে রাস্তা ঝাড়– দেয়ার সময় একটি পিকআপ ভ্যান হায়াতুন্নেছাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে আগারগাঁও নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে নিলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হায়াতুন্নেছাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজিমপুরে মৃত রাকিবের খালাতো ভাই ইব্রাহীম হোসেন জানান, রাকিবের বাবা মজিবুর রহমান বুয়েটের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তাদের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার রতিপুরে। সপরিবার বুয়েট স্টাফ কোয়াটারে থাকতেন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্র রাকিব।

তিনি আরও জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ৫ থেকে ৬জন বন্ধুর সঙ্গে আজিমপুর অগ্রণী স্কুলের পুকুরে গোসল করতে যায় রাকিব। গোসল করার একপর্যায়ে মাঝপুকুরে তুলিয়ে যায় সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে রাকিবের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় তার বন্ধুরা।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের স্টেশনে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল রাকিবকে পুকুরের পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে। অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে