আয়তনে বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন

  সজল ছত্রী ও নুরুল হক শিপু

১৯ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৩৭ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৭, ২১:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

বর্তমান আয়তনের প্রায় ৮ গুণ হচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সিসিক সূত্র জানিয়েছে এমন তথ্য। সেক্ষেত্রে বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডের স্থলে ওয়ার্ড হবে ৬৭টি।

১৮৬৭ সালে পৌরসভা গঠনের প্রায় ১৩৫ বছর পর ২০০২ সালে নগরীর মর্যাদা পায় সিলেট। ২০০৯ সালে মহানগরীতে উন্নীত হলেও আয়তনে তেমন একটা বাড়েনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহানগরী।

সিসিক সূত্র জানায়, তৎকালীন পৌরসভার সীমানা আয়তন ২৬.৫০ বর্গকিলোমিটার নিয়েই ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। সে অনুযায়ী উত্তর সুরমায় ২৪টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সুরমায় ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০০২ সাল থেকে চলছে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম। এর ফলে সিসিক সংলগ্ন সীমানার বাইরের চতুর্দিকের এলাকার জনগণ কর্পোরেশনের অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় সে-সব এলাকা থেকে কোনো ধরনের রাজস্ব আদায় সম্ভব হয় না। এতে সিটি কর্পোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় (সিসিক) ১৮৭ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। আয়তন বাড়ানোর প্রক্রিয়া ২০১৪ সালে শুরু করেন সিটি  মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ২০১৪ সালের ২২ জুলাই স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে একটি আবেদন করেন আরিফ। একই বছরের আগস্ট সিনিয়র সহকারী সচিব সরুজ কুমার নাথ সীমানা পরিবর্তন সম্প্রসারণ এবং সংকোচন বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী তথ্যাদি উল্লেখসহ পুন:প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ করেন। এরপর ২০১৫ সালের ২৩ জুন বিধিমালাসহ পূন:প্রস্তাব প্রেরণ করে সিসিক কর্তৃপক্ষ। যদি সিটি কর্পোরেশনের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ৪০টির মতো ওয়ার্ড বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এতে কয়েকগুন রাজস্বও বাড়বে। একই সাথে মানুষের সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে।

সিসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের আয়তন হচ্ছে ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার। প্রস্তাবিত আয়তন ১৮৭ দশমিক ১২ বর্গকিলোমিটার এবং বর্ধিত আয়তন ১৬০ দশমিক ৬২ বর্গকিলোমিটার। যার বর্তমান তফসিল হচ্ছে, উত্তরে কুমারগাঁও (জেএল নম্বর-০৮), ব্রাহ্মণছড়া চা-বাগান (জেএল নম্বর-৭৬), তারাপুর চা-বাগান (জেএল নম্বর-৭৬), দললদি চা-বাগান (জেএল নম্বর-৭৩), সাদীপুর প্রথম খন্ড এজএল নম্বর-৯৩), দেবপুর (জেএল নম্বর-৯৬)।

দক্ষিণে রুকনপুর (জেএল নম্বর-১২৭), গোটাটিকর (জেএল নম্বর-১১৯), গোধরাইল (জেএল নম্বর-১২৬), পিরিজপুর (জেএল নম্বর-১১৪)।

পূর্বে দেবপুর (জেএল নম্বর-৬৪), বাঘা (জেএল নম্বর-৩), কসবা কুইটুক (জেএল নম্বর-১০০), কুচাই (জেএল নম্বর-১০৫)।

পশ্চিমে বরইকান্দি (জেএল নম্বর-১১৩), সাধুর খলা (জেএল নম্বর-৮৯), খানুয়া (জেএল নম্বর-৮৭)।

প্রস্তাবিত তফশিল হচ্ছে, উত্তরে খাদিমনগর চা-বাগান (জেএল নম্বর-৭১), দলদলি চা-বাগান (জেএল নম্বর-৭৩), সালুটিকর (জেএল নম্বর-১৯৯)।

দক্ষিণে শুড়িগাঁও মামুদপুর (জেএল নম্বর-১৪৪), রুস্তুমপুর (জেএল নম্বর-১৪৩), কলাইরচক (জেএল নম্বর-১৩৮), ডুমশিরি (জেএল নম্বর-১৩৪), ভাঙ্গি (জেএল নম্বর-১৩৩), ছাত্তিঘর (জেএল নম্বর-১১)।

পূর্বে বটেশ্বর (জেএল নম্বর-৬৫), বাঘা (জেএল নম্বর-৩), হাতিমনগর দক্ষিণ (জেএল নম্বর-৩৩), আহমপুর (জেএল নম্বর-১), হাতিমনগর উত্তর (জেএল নম্বর-২), উত্তর ভাগ (জেএল নম্বর-৩৫), বাঘরখলা (জেএল নম্বর-৩৫), হিলালপুর (জেএল নম্বর-৩৪), মাইজভাগ (জেএল নম্বর-৩৭), দাউদপুর (জেএল নম্বর-১৩০), তিরিশিগাঁও (জেএল নম্বর-১৭৯)।

পশ্চিমে চাতল (জেএল নম্বর-৫১), গোপাল উত্তর (জেএল নম্বর-৮১), কসকালিয়া (জেএল নম্বর-৪৮), বাওনপুর (জেএল নম্বর-২৭), ইনায়েতপুর (জেএল নম্বর-২৫), হরিপুর (জেএল নম্বর-২৮), রগুপুর (জেএল নম্বর-২৯) দর্শা (জেএল নম্বর-৮৪), মেদিনী মহল (জেএল নম্বর-৮৫), লক্ষ্মীপাশা (জেএল নম্বর-১১৯), হাজরাই (জেএল নম্বর-১১৮), তালিবপুর (জেএল নম্বর-১২০), লক্ষ্মীপুর (জেএল নম্বর-১২১)।

এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে সীমানার আয়তন সম্পর্কে কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন সদর উপজেলা এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলার এলাকা পর্যবেক্ষণ করে আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে। আয়তন নির্ধারণের আগেই বলা যাচ্ছে না কয়টি ওয়ার্ড নতুনভাবে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হবে।’

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘যে সকল এলাকা সিটি কর্পোরেশনের আওয়তায় আনার জন্য আবেদন করা হয়েছে সে সকল এলাকার মানুষ এখন নগরায়ণের আওতায় রয়েছেন। তিনি বলেন, এসব এলাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে মানুষের উন্নয়ন ঘটবে, এলাকা সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, যে পরিমাণ এলাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সে হিসেবে প্রায় ৪০টি ওয়ার্ড বাড়বে। একই সাথে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে না, রাজস্ব আয়ও অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে