ইআরএফ কর্মশালায় গভর্নর ফজলে কবির

খেলাপী ঋণ মারাত্মক সমস্যা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৫০ | আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণ মারাত্মক সমস্যা। বর্তমানে খেলাপী ঋণের হার ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সরকারি কোন কোন ব্যাংকে খেলাপী ঋণ এই হারের তুলনায় তিনগুণ বেশি। কোন ব্যাংক আড়াই গুণ।

আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এসব কথা বলেন।

ইকোনমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) সদস্যদের জন্য দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মশালায় ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান, চেঞ্জম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, সিনিয়র উপদেষ্টা ড. ফয়সাল আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা, সুলতান আহম্মাদ, ট্রেনিং একাডেমীর প্রিন্সিপাল জামশেদুজ্জামান, মহাব্যবস্থাপক এস এম রবিউল হাসান, আবু ফরাহ মো. নাছের, ড. হাবিবুর রহমান, ইআরএফের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রেমিটেন্স পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অর্থবছরের সাতমাসে রেমিটেন্স প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিটেন্স আসার কারণে কমছে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে কি কারণে রেমিটেন্স কমছে তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকে খেলাপী ঋণ বেশি থাকা সমস্যা। কারণ সরকারি ব্যাংকগুলোকে সরকারের বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ণ করতে হয়। সরকার চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ২ এবং আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৮ শতাংশ হারের যে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে তার বাস্তবায়ন করতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তাই শ্রেনীকৃত ঋণ কমিয়ে আনতে না পারলে এ বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগান দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, সবপেশার মানুষের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। সঠিকভাবে আর্থিকখাতের সংবাদ তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য এ প্রশিক্ষনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, বিশ্ব মন্দার সময়ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মজবুত ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষ মুদ্রানীতির ফলে দেশের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন, সবুজ অর্থায়ন, আর্থিক অন্তভুক্তিকরণের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্র্থিক খাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া গেলে আর্থিক খাত তথা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাংবাদিকরা সহযোগী ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।  

ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে খেলাপী ঋণ বাড়ছে। এটি কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সচেষ্ট রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের জানামতে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে একটি ব্যাংকে সর্বোচ্চ ২০ জন পরিচালকের ৩ জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে পারে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে ৯ জন স্বতন্ত্র পরিচালক রয়েছে। আইন নিয়ে এক ধরনের বিভ্রান্তির কারণে এটি হয়েছে। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে