‘ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিস্মিত’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে ২০১৭, ২১:০৯ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৭, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ফটো
ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ যাকাত ফান্ড, সিএসআর ও শিক্ষাবৃত্তিসহ অন্য বিষয়ে নিয়ে এককভাবে যে সব বক্তব্য দিচ্ছেন তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। তিনি বলেন, তার বক্তব্যে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চেয়ারম্যান।

আরাস্তু খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি জানতে আমাকে ডেকেছেন। প্রায় ৪০ মিনিট তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিচালকের বক্তব্য বোর্ডের বক্তব্য হতে পারে না। তার বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিব্রত। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন।

গত ১৩ মে বোর্ড সভার পর ভাইস চেয়ারম্যান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের যাকাত ফান্ডের ৪৫০ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ যাকাত ফান্ডে আছে মাত্র ২৮ কোটি টাকা। গত কয়েক দিনে ভাইস চেয়ারম্যান যেসব তথ্য গণমাধ্যমকে দিয়েছেন তা পুরোপরি অসত্য বলে দাবি করেন আরাস্তু খান। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিলে ইসলামী ব্যাংক দিয়েছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা।

আরাস্তু খান বলেন, পর্ষদের সদস্য হওয়ার আগে প্রত্যেক পরিচালককে গোপনীয়তা রক্ষার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে এই মর্মে ঘোষণা দিতে হয় পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করবেন না। শুধুমাত্র তার দায়িত্ব পালনে আবশ্যক হলে বা পর্ষদ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে কেবলই তা প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি এখান থেকে সরে গিয়ে ওইটা করেছেন। আমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। তবে তিনি এটা ঠিক করেননি।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আরাস্তু খান বলেন, সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ না জেনে কথা বলেন। তার সঠিক জ্ঞান নেই। তিনি পরিচালকের অর্পিত দায়িত্ব লংঘন করেছেন।

তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা পর্ষদের বিষয়। পর্ষদ যা ভাল মনে করবে সেটাই হবে।

আরাস্তু খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গণমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। আশা করছি এরপর ব্যাংকের ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক ও দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।  

তিনি বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভার বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষত যাকাত ফান্ডের অর্থের ব্যবহারে বিষয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা নিতান্তই বিভ্রান্তিকর। বিগত ৩৪ বছরে ইসলামী ব্যাংকের যাকাত ফান্ডে জমা হয়েছে ৩৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিতরণযোগ্য যাকাতের পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা। সুতরাং সরকারি যাকাত ফান্ডে ৪৫০ কোটি টাকা প্রদানের সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরো বলেন, গত বোর্ড সভায় ব্যাংকের সিএসআর সুবিধাভোগীদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাংকের ১৯ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তিপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের বিষয়ে খতিয়ে দেখার কোনো সিদ্ধান্তও বোর্ড সভায় গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিবছর শাখাসমূহের মাধ্যমে দেশব্যাপী রজমানের ইফতার বিতরণ করা হয়। এবছর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আরাস্তু খান বলেন, বোর্ড সভার বরাত দিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকার ইফতার বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে মর্মে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাও সঠিক নয়। তাছাড়া ব্যাংকের জনসংযোগ, মার্কেটিং ও সিএসআর বিভাগের প্রধানদের বদলি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা কমানোর আলোচনাই হয়নি বোর্ড সভায়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালকদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন, মিজানুর রহমান, ড. সিরাজুল করিম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হামিদ মিয়া, উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে