উই আর ঝুঁকিবাজ সরকার: এম এ মান্নান

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জুন ২০১৭, ১৯:১১ | আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

বাজেট সংলাপে অর্থনীতির আলোচনার মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজনৈতিক অভিযোগের প্রতিউত্তরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, উই আর ঝুঁকিবাজ সরকার।

আজ শনিবার গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এম এ মান্নান বলেন, সংসদে বিরোধীদল নেই বলে বাজেট সমালোচনার কেউ নেই বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু বিরোধী দল তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। কেননা বিরোধী রাজনৈতিক দল তৈরির কোনো খাতও নেই বরাদ্দ নেই।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে এক সময় বিপদ ছিল। সেই বিপদ এখন কেটে গেছে। মূলধনের যোগান দিতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর ভালো করার ঝুঁকি নিয়েছি। আমরা ঝুঁকি নিই। উই আর ঝুঁকিবাজ সরকার। ঝুঁকি নিয়ে বড় বড় প্রকল্প তৈরি করেছি। মেগাপ্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছি। এজন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে ৭ শতাংশে গেছে। এজন্য আমাদের ক্রেডিট দেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, উই আর নট বোবা কালা। হাওরে বন্যা হয়েছে। সেখানে গিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘবে চেষ্টা করেছি। চালের দাম বাড়ার কথা থাকলেও তা বাড়েনি। ৪০ টাকায় জনগণ চাল কিনতে পারছে। আমাদের কাজের জন্য আমার এলাকার বিএনপির নেতা আগামী নির্বাচনী আমার নৌকায় ভোট দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

সেমিনারে বিএনপি নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর সব স্বৈরাচারী সরকার লোক দেখানো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। আমাদের দেশেও হচ্ছে। অবৈধ সরকারে বৈধতার জন্য এটি করা হয়। কিন্তু জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না।

তিনি বলেন, প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে।  ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হতে ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থনীতিতে ভর করায় প্রকৃত অর্থনীতি গতি মন্থর। সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। সেখানে মেধাবীরা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা কমে গেছে। যেখানে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে, মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত হয়, গণমাধ্যমে স্বাধীনতা থাকে না, সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না। বিনিয়োগকারী মনস্তাত্তিকভাবে আস্থা হারিয়ে ফেলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির আলোচনায় রাজনৈতিক বিষয় আনতে চায় না। আমার বন্ধু আমির খসরু কাউকে খুশি করতে এখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। উনারা আগুন দিয়ে কত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন সেটিও বলবো না।

তিনি বলেন, বাজেটে ভ্যাট ও আবগারী শুল্ক নিয়ে কথা হচ্ছে। মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করেন। আস্থা রাখুন বাজেট পাসের পর কি হয়? প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে জনগণ কষ্ট পায়। কর আদায়ের বিষয়ে আমাদের নীতি হচ্ছে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়।

আলোচনায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাজেটে  সরকার ও রাজনৈতিক দলের কোনো দর্শন নেই।  রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন লক্ষ্য থাকলেও বাজেটে কোনো অগ্রাধিকার নেই। উন্নতির নামে সুশাসন ও গণতন্ত্রকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক খান,  সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, সিপিডির চেয়ারপার্সন ড. রেহমান সোবহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে