ক্যান্টিন ম্যানেজারকে রক্তাক্ত করল ঢাবি ছাত্রলীগনেতা

  ঢাবি প্রতিবেদক

১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৩ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ক্যান্টিনে খাবারের টাকা চাওয়ায় ক্যান্টিন ম্যানেজারকে মেরে রক্তাক্ত করেছে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ওয়াসিফ হাসান পিয়াস। তিনি ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এসময় তিনি (পিয়াস) একজন ক্যান্টিন কর্মচারীকেও মেরে আহত করেন।

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ম্যানেজারের নাম শফিকুল ইসলাম ও কর্মচারীর নাম মনির হোসেন। পরে তাদেরকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে মারধর করায় ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে হলের ক্যান্টিনে খাবার খেতে আসেন পিয়াস। টাকা দিয়ে খাবারের টোকেন না নিয়ে ক্যান্টিন কর্মচারীকে তিনি খাবার দিতে বলেন। এসময় টোকেন ছাড়া খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথমে তাকে মারধর করে খাবার নেয়। খাবার খেয়ে চলে যাওয়ার সময় ক্যান্টিন ম্যানেজার শফিক তাকে ফের টোকেন নেওয়ার কথা বললে তাকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে শফিকের চোখ ফেটে রক্ত বের হয়ে যায়। পরে তিনি ক্যান্টিন কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে যান। পরে অন্যান্য ক্যান্টিন কর্মচারীরা আহত অবস্থায় শফিক ও মনিরকে উদ্ধার করে মেডিক্যালে নিয়ে যায়। পিয়াসের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ক্যান্টিন কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানায়।  

শফিকুল ইসলাম বলেন, টোকেন চাওয়ায় প্রথমে তিনি (পিয়াস) এক ক্যান্টিন বালককে মারধর করেন। পরে আমি তাকে টোকেন নিতে বললে তিনি ক্যাশবক্সের উপরে উঠে আমাকেও মেরে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার চোখ ফেটে গেছে।

এ বিষয়ে এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, টোকেন ছাড়া খাবার নেওয়া ঠিক না। পিয়াস যে কাজ করেছে তা কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আমরা হল শাখার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, সহকারী আবাসিক শিক্ষক জাহিদুল আরেফিন চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে