‘জাবি প্রেসক্লাবের’ এ কেমন নির্বাচন!

  জাবি প্রতিনিধি

২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৩৫ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব’ নামের একটি সংগঠন ভুয়া সাংবাদিকদের ভোটার বানিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যদের না জানিয়ে একদিনের মধ্যে সদস্য নবায়ন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন ও আজ শুক্রবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে কথিত এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়া।

তবে সংগঠনের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ জানান, শুক্রবার নির্বাচন হবে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

জানা যায়, সংগঠনের সংবিধানের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নিজের ইচ্ছে মত নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন বাতিল, নির্বাচনের ফরম উত্তোলন, প্রার্থীতা প্রত্যাহার, প্রার্থীতা বাছাই এক রাতেই মধ্যেই করা হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন সদস্য আহ্বানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা প্রত্যয়নপত্রের মূল কপি এবং নিজের নামসহ দুটি নিউজ জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক নিয়ম ভেঙে নিজের অনুসারীদের কোনো নিউজ বা পত্রিকা অফিসের পরিচয়পত্র না থাকলেও অন্তত ১৫জনকে সদস্যকে পদ দিয়েছেন। তারা সবাই ভুয়া সাংবাদিক। এ ঘটনায় কয়েকজন সদস্য বাধা দিলে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন কথিক এই পকেট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়া।

পরে সংগঠনের সভাপতি রিজু মোল্লার নির্দেশে ভুয়া সাংবাদিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইনের কাছে আবেদন করেন দুই সাংবাদিক।

এতে নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দিলে ওই কমিশনারকে বাদ দিয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে (শামীম রেজা) নতুন নির্বাচন কমিশনার করা হয়।

সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই সাধারণ সম্পাদক তানজিদ বসুনিয়া নিজের ইচ্ছে মতো প্রার্থী সিলেক্ট করে কে কোন পদে নির্বাচন করবে তা প্রার্থীদেরকে বলে দিয়েছে। শুধু লোক দেখানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে তাদেরকে জামায়াত-শিবির বলে প্রচার করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কথিত এই সংগঠনের সাবেক এক সভাপতি নাম প্রকাশ না শর্তে  দৈনিক আমাদের সয়মকে বলেন, বর্তমান এই সংগঠনে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাড়াহুড়ো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নামে প্রহসন ছাড়া কিছুই না।

এ সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তানজিদ বসুনিয়া সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম নির্বাচন কমিশনার সিকদার মো. জুলকারনাইনকে বাদ দিয়ে আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারো না জানাই ভালো।

সংগঠনের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তন এবং আজ যে নির্বাচন হবে এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কারা এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাও জানি না।

প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, আমি যতটুকু জানি তাদের নির্বাচন কমিশনার আমি। তারা আমাকে নির্বাচন কমিশনার থেকে বাদ দিয়েছে তা আমি জানি না।

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম (শামীম রেজা) বলেন, উপাচার্য বিষয়টি আমাকে দেখার জন্য বলেন। তাই আমি নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। কিন্তু জুলকারনাইনকে যে বাদ দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে আমি জানি না।  যদি এই ঘটনা সত্য হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচন স্থগিত করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে