লাভেলোর শুভেচ্ছাদূত এভ্রিল

  বিনোদন প্রতিবেদক

০৪ অক্টোবর ২০১৭, ২০:৪৫ | আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা থেকে আর কিছু পাবার নেই জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের। যাও পেয়েছিলেন তা হারালেন তথ্য গোপন করে। তবে একেবারেই খালি হাতে ফিরছেন না মাফিয়া গার্ল এভ্রিল। খেতাব হারানো এই তারকা এবার আইসক্রিম ব্র্যান্ড লাভেলোর শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হয়েছেন। এখন থেকে লাভেলোর মুখ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে  ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর লাভেলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক এভ্রিলের উপস্থিতিতেই এ ঘোষণা দেন।

গতকাল ফেসবুক লাইভে এসে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কথা বলে মানুষের হৃদয় জিতেছেন তিনি। বাংলাদেশের চারপাশে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত নারীদের নিয়ে তার কাজ করার অদম্য ইচ্ছাকে এবার বাস্তবে রুপ দিতে লাভেলো তাকে এই সুযোগ করে দিচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরের ফেসবুক লাইভে কান্না বিজড়িত অবস্থায় এভ্রিল বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকে কোনও বাধাবিপত্তির কাছে মাথা নত করিনি। আমি কখনও হার মানতে শিখিনি। একটা ১৬ বছরের মেয়েকে তার বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে, সে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। সেই মেয়ে এখন সফল। সে তার সমাজের কোনও কথা শোনেনি। আশপাশের কারও কথা কানে নেয়নি। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ দৈনন্দিন একটি ঘটনা, তাই এ বিয়ে মানতে পারিনি। আমি এর বিরুদ্ধে কাজ করতে চেয়েছি। আমি জানাতে এসেছি, অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিলে তারা কতদূর যেতে পারে। আমি সেইসব বাবার চোখ খুলে দিতে এসেছিলাম। যারা পরিবারের চাপে সব মেনে নেয় আমি সেইসব মেয়ের চোখ খুলে দিতে চেয়েছিলাম।

বাংলাদেশে আইন আছে, এখানে ১৬ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে দিলে সেটা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। আমার বেলায়ও তা হয়েছে। কিন্তু যে একদিনও সংসার করেনি তাকে কেন সারাজীবন বিবাহিতা পরিচয় বয়ে যেতে হবে? একটাবারও ভেবেছেন, চারপাশের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে কতটা সংগ্রাম করে আমাকে আজ এ অবস্থানে আসতে হয়েছে। তিলে তিলে নিজেকে তৈরি করেছি। না পেয়েছি বাবা কিংবা পরিবারের সমর্থন। আপনারা আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? ১৬ বছরের একটা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিলে, সেটার কোনও শাস্তি হয় না। বাল্যবিয়ে নিয়ে হাসাহাসি কিংবা ট্রল হয় না। আর একটি ডিভোর্সি মেয়ে ছোটবেলা থেকে সংগ্রাম করে এসে সফল হলে তার শাস্তি নিয়ে কথা বলা হয়। তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হয়। কেন? আপনাদের মানসিকতা এমন কেন? আপনারা আসলেই অন্যায়ের শাস্তি চান? কাদের জন্য আপনারা ন্যায়বিচার চান? কাদের জন্য? আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে কতটুকু সৎ? আমার প্রশ্নের উত্তরটা দেবেন প্লিজ।

এমনকি যখন চারিদিকে তার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ খেতার বাতিলের খবর ভেসে বেড়াচ্ছিল তখনও তিনি অত্যন্ত শক্ত মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, মিস ওয়ার্ল্ডে যে-ই যাক না কেন তার জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইলো। আমি যখন ভুল করে ফেলেছি, আমার কাজটা না হয় সে করে দিক। আমি না হয় আমার দেশেই থাকি। মিস ওয়ার্ল্ডে জান্নাতুল নাঈমের নামটা না-ই গেলো। কোনও সমস্যা নেই। যতদিন বেঁচে থাকবো মেয়েদের জন্য কাজ করবো। যে মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়, স্বাধীনতা পায় না, তাদের জন্য শেষ নিঃশ্বাস অবধি কাজ করে যাবো। অনেকে বলছেন, জান্নাতুল নাঈম এ ঘটনায় আত্মহত্যা করবে। জেনে রাখুন, জান্নাতুল নাঈম যথেষ্ট দৃঢ়চেতা মেয়ে। সে এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো মেয়ে না।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে