হত্যার পরেই পালানোর ছক ছিল প্যাডকের

  অনলাইন ডেস্ক

০৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

তার জীবনের অনেকটাই গোপনীয়তায় ঢাকা। তাই নানা দিক থেকে তথ্য জোগাড় করে লাস ভেগাসের ঘাতক স্টিফেন প্যাডককে (৬৪) বোঝার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ দিন তাদের সংযোজন, কান্ট্রি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হামলা চালানোর পরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল প্যাডক। যদিও পরে কোনও ভাবে সেই ছক পাল্টে হোটেলের ঘরে একটি নোট রেখে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার আগেই নিজেকে শেষ করে দেয় সে। তবে সেই নোটটি সুইসাইড নোট কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ। প্যাডকের সঙ্গিনী মারিলু ড্যানলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের।

লাস ভেগাস মেট্রোপলিটান পুলিশের শেরিফ জোসেফ লোম্বার্ডো বলছেন, পরিচিতদের থেকে প্যাডক অনেকটাই লুকিয়ে রেখেছিল নিজেকে। মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হত্যালীলা চালানোর আগে সে অন্য কোনও সূত্র থেকে সাহায্য পেয়েছিল বলেও ধারণা লোম্বার্ডোর। সেই লোকটির একটি ছবিও স্কেচ করিয়েছে পুলিশ। গত তিন দিনে একশোরও বেশি তদন্তকারী অফিসার প্যাডকের জীবনের সব রকম দিক খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। তার উপর ভিত্তি করে লোম্বার্ডো বলেছেন, ‘‘সব দেখে মনে হচ্ছে, প্যাডক কয়েক দশক ধরে নিজের অস্ত্র ভাণ্ডার তৈরি করেছিল। কিন্তু ঠিক কী কারণে এত দিন পরে সে হত্যালীলা চালালো, সেটা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।’’

তদন্তকারীদের দাবি, গত বছর অক্টোবর থেকে এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এমন কিছু একটা ঘটেছিল, যা প্যাডককে আরও বেশি সংখ্যক অস্ত্র কিনতে বাধ্য করেছিল। শুধু এই ১৩ মাসে ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল সে, যার বেশির ভাগই আবার রাইফেল। আর হোটেলের সুইটে যে পরিমাণ অস্ত্র মজুত করেছিল সে, তা-ও পুলিশের মতে, প্যাডকের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

মারিলু ড্যানলির সঙ্গে কথা বলেও প্যাডকের কাজের কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে পায়নি পুলিশ। মারিলু নিজেও স্তম্ভিত প্যাডকের এই আচরণে। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, প্যাডকের মতো ‘দয়ালু’ মানুষ এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালাবে, ভাবতে পারেননি তিনি। ঘটনার অন্তত দু’সপ্তাহ আগে প্যাডক নাকি ফিলিপিন্সের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিল মারিলুর হাতে। তার পরে সে মারিলুর সেখানকার ঠিকানায় এক লক্ষ ডলার পাঠিয়ে দেয়, যাতে তার সঙ্গিনী ফিলিপিন্সে বাড়ি কিনতে পারে। মারিলু এই দাবি করলেও পুলিশ অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়, যে ওই অর্থ ওই মহিলার ঠিকানাতেই পৌঁছেছিল কি না। মারিলু পুলিশকে বলেছেন, ওই সময়ে তার মনে হচ্ছিল প্যাডক হয়তো সম্পর্কটা ভেঙে দিতে চাইছে। বছর ৬২-র ওই মহিলা পুলিশকে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমার কখনওই মনে হয়নি, ও কারও বিরুদ্ধে হিংসামূলক কাজের চক্রান্ত করছে।’’

ম্যান্ডেলে বে-র মতোই সেপ্টেম্বরের ২২-২৫-এ নেভাডার ক্লার্ক কাউন্টিতে ২২ তলা হোটেল ‘দ্য অগডেন’-এ উঠেছিল প্যাডক। সেখানে তখন চলছিল ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ কনসার্ট। ফলে সেখানেও থাকার সময় এমন কোনও ভাবনা প্যাডকের মনে কাজ করছিল কি না, স্পষ্ট নয়। এফবিআই উপ-অধিকর্তা অ্যান্ড্রু ম্যাকাবে বলেছেন, ‘‘অতীতের বন্দুকবাজের হামলার সঙ্গে এই ঘটনার মিল নেই। আমরা এখনও ঘাতকের উদ্দেশ্য জানি না।’’

এ দিন লাস ভেগাসের আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ‘‘ঘাতক অসুস্থ, উন্মাদ একটা লোক।’’ সে দিন যে ভাবে মার্কিন নাগরিকরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘যখন মানবতার ভয়ঙ্কর দিকটা আঘাত করে, মানবতার সেরা দিকটা তার সঙ্গে লড়াইয়ে নামে। বাবা-মা নিজেদের ছেলেমেয়েদের গুলি থেকে বাঁচাতে পথ আগলে দাঁড়িয়েছেন।’’

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে