পূজার সাজে ভিন্ন লুক

  অনলাইন ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৭ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উত্সব হলো দুর্গাপূজা। আজ মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পূজার আনন্দ শুরু হয়ে গেছে। মন্ডপে গিয়ে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে বড়দের প্রণাম করা, বন্ধুদের নিয়ে বেড়ানোতেই পূজার মজা। সেইসঙ্গে সুন্দর করে সাজার বিষয়টিও প্রাধান্য থাকে। প্রতিদিনের উত্সবের সাজেই থাকা চাই ভিন্নতা। তাই শুরু থেকেই যদি একটি প্ল্যান করে নেওয়া যায় তাহলে পূজার সাজে ভিন্নতা আসবে।

রুপবিশেষজ্ঞরা বলেন, পূজার সময়টা থাকে শরতে। এই সময়ে আবহাওয়ায় থাকে মেঘ-বৃদ্ধি আর ভ্যাপসা গরমের মিশেল। তাই একটু হালকা সাজই মানানসই। দিনের বেলার সাজে ন্যাচারাল লুকটা ধরে রাখা জরুরি। কেননা, দিনে মন্দিরে যাওয়া বা পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় প্রকৃতির সজীব ভাবটা থাকা চাই আপনার সাজে। পোশাকের মধ্যে হালকা নীল, আকাশি, স্নিগ্ধ বা নেভি ব্লু  রঙের পোশাক নির্বাচন করতে পারেন। এছাড়া নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী হালকা যে কোনো রঙের শাড়ি বা সালোয়ার কামিজে জড়িয়ে নিতে পারেন নিজেকে। চাইলে একরঙা পাড় শাড়িও পরতে পারেন।

পূজায় দিনের সাজ

ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজার উৎসব চলে। তাই ষষ্ঠীতে সাজ হালকা হয়ে দশমী পর্যন্ত রঙিন হয়ে ওঠে। দিনে মন্দিরে পূজার অঞ্জলি দেওয়ার সময় প্রকৃতির সজীব ভাবটা যেন সাজের মধ্য থাকে। সেজন্য বেইজ মেকআপ করার ক্ষেত্রে ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে হালকা ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার উপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। এবার ভিজে স্পঞ্জ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন।

চোখের সাজে অফ হোয়াইট হাই লাইটস, বাদামি ও কালো রংয়ের কম্বিনেশন অথবা পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করুন। পেনসিল আই লাইনার অথবা চাইলে শুধু কাজলের একটা হালকা রেখা টেনে দিন চোখে। ঠোঁটে কোরাল বা হালকা গোলাপি লিপস্টিক অথবা লিপগ্লস লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা বাদামি রংয়ের ব্লাশঅন লাগান।

সারা দিনের জন্য বাইরে বের হলে চুলটা এমনভাবে বাঁধুন যাতে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়। আবার দেখতেও যেন ভালো লাগে। খোঁপা করলে ফুল পড়তে পারেন। বিবাহিত হলে বড় করে কপালে লাল টিপ ও সিঁথিতে সিঁদুর পড়ুন।

পূজায় রাতের সাজ

সন্ধ্যার পর পূজা দেখতে বের হলে জমকালোভাবে সাজতে পারেন। তাই রাতের মেকআপ একটু যত্ন নিয়ে করতে হয়। চোখের আশপাশে কালি বা কোনো দাগ থাকলে সেটা ঢাকার জন্য কনসিলার ব্যবহার করুন। এর উপরে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার উপর ফেস পাউডার দিন। এবার ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন।

অ্যাকোয়া ব্লু ও ধূসর আইশ্যাডো কম্বিনেশন করে চোখের পাতায় লাগান। সিলভার রংয়ের হাইলাইটস দিন। ওয়াটার প্রুফ আইলাইনার ও কাজল পড়ুন। চোখের পাপড়ি ঘন ও বড় দেখানোর জন্য ২-৩ পরত ওয়াটার প্রুফ মাশকারা লাগিয়ে নিন। চোখের মেকআপ গাঢ় হলে স্বাভাবিক রংয়ের লিপস্টিকই ভালো দেখাবে।

সাজের সঙ্গে মানানসই স্টাইল করে নিন চুলে। শাড়ির সঙ্গে খোঁপা বা লম্বা বেণির পাশাপাশি ফ্রন্টসেটিং করতে পারেন। খোলা চুলেও স্টাইল করা যায়। স্ট্রেইট করিয়ে নিতে পারেন। আবার হালকা বা কোঁকড়ানো করতে পারেন।

পূজার সাজে ফুল থাকা চাই-ই। চুল সাজাতে পারেন ফুলের স্নিগ্ধতায়। খোঁপাতে জড়িয়ে নিন শিউলি ফুল বা বেলিফুলের মালা। কানের পাশে গুঁজে দিন নীল অপরাজিতা। বিবাহিত হলে বড় লালটিপ, সিঁথিতে সিঁদুর আর পায়ে আলতার প্রলেপ অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে আপনাকে।

সপ্তমীর সাজ

সপ্তমীর রাতের সাজটাও হবে হালকা। ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার ওপর ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। চোখের ওপর ব্লু বা গ্রে আইশ্যাডো কম্বিনেশন করে লাগিয়ে নিন। এর ওপর হাইলাইট করুন সিলভার কালার দিয়ে। চোখে মোটা করে কাজল পরতে পারেন। কয়েক পরতের মাশকারা পরলে আইলেশ ঘন দেখায়। ঠোঁটে লিপস্টিক পরুন হালকা রঙের। কপালে বড় লাল টিপ ও সিঁথিতে সিঁদুর পরুন। শাড়ির সঙ্গে সামনের চুল ফুলিয়ে পেছনটা আয়রন করে খোলা রাখতে পারেন।

অষ্টমীর সাজ

অষ্টমীর সাজ হওয়া উচিত একেবারেই নিজস্ব ঢঙে। তবে দিনের বেলার সাজে ন্যাচারাল লুকটাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। লাল, মেরুন, তসর, সিল্ক, কাতান সাদার মধ্যে লাল পাড় শাড়ি পরতে পারেন। আঁচলে বেশি কাজ আছে এরকম লাল পাড়ের শাড়ি একপ্যাঁচ করে পরতে পারেন। অষ্টমীতে সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। দিনের উৎসবে বেইজ করার জন্য ত্বকের টোনের সঙ্গে মিশিয়ে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বা খুব হালকা করে ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। ফাউন্ডেশন হালকা করার জন্য এতে কিছু পানি মিশিয়ে নিন। খুব অল্প পরিমাণে লাগিয়ে এর ওপর পাউডার বুলিয়ে নিন।

পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কনট্রাস্ট করে চোখে আইশ্যাডো লাগান। পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে মিলিয়ে নিন। মাশকারা পরুন ঘন করে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা পিংক ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন। ট্রেডিশনাল লুক আনতে পায়ে আলতা পরতে পারেন মোটা করে। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে কার্ল করে ছেড়ে রাখুন। কানের পেছনে গুঁজে দিন বেলি ফুলের মালা বা সাদা ও লাল জারবেরা।

এই রাতের সাজটা হওয়া চাই জমকালো। ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার ওপর ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। চোখের ওপর পছন্দ মতো রঙের আইশ্যাডো বা এর কম্বিনেশন করে লাগিয়ে নিতে পারেন। সিলভার কালার দিয়ে এর ওপর হাইলাইট করে নিন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গাঢ় রঙের লিপস্টিক পরুন। কপালে বড় একটি টিপ এবং শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল রেখেও সিঁথিতে সিঁদুর পরতে পারেন। রাতের সাজের গহনা হওয়া চাই ভারি। পোশাক অনুযায়ী চুলের সাজ হতে পারে ব্লো আইরন, কারলিং, স্পাইরাল রিং, রিং বান, ফ্রেঞ্চ বেণি অথবা খোঁপা।

নবমীর সাজ

নবমীর দিনটাতে সবাই চায় একটু জমকালো সাজে নিজেকে সাজাতে। দিনের উৎসবে হালকা সাজের সঙ্গে সিলভার অথবা মেটালের গহনা পরতে পারেন। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে খোঁপা করে রাখুন। নবমীতে হয় সান্ধ্যপূজা। আর সন্ধ্যার পর বলেই পার্টিসাজকে প্রাধান্য দেয় সবাই। ভারি গহনা, রঙ-বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক, ভারি মেকআপ, বাহারি চুলের সাজ, তাজা ফুল এদিনের সাজের অনুষঙ্গ। সাজের শুরুতে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে তার ওপর ফেসপাউডার লাগিয়ে নিন। চোখের ওপর শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল রেখে আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। এর ওপর হাইলাইট করুন গোল্ডেন কালার দিয়ে। চোখে মোটা করে কাজল পরুন। জমকালো ভাব ফুটিয়ে তুলতে মাশকারা পরতে হবে কয়েক পরত করে। ব্লাশনটা পরতে হবে গাঢ় করে। ঠোঁটে লিপস্টিকটাও হতে হবে গাঢ় রঙের। চাইলে কপালে ট্রেডিশনাল অথবা ট্রেন্ডি ডিজাইনের টিপ পরতে পারেন। আঙুলে বড় পাথরের আংটি। গলায় ও কানে পরুন পাথরের গহনা। পারফিউম ব্যবহার করুন। শাড়ির সঙ্গে চুলের সাজও হতে হবে জমকালো।

দশমীর সাজ

দশমী মানেই পূজার শেষ দিন। দশমীতেই দুর্গা মায়ের বিসর্জন। এদিন দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে চলে যাবেন স্বর্গে। বিসর্জনের পর থেকে শুরু হয় বিজয়া। শারদীয় দুর্গা উৎসবের প্রধান আকর্ষণ দশমী। সাজপোশাকের ক্ষেত্রে দশমীর রয়েছে সনাতনী ভাবধারা। দশমীর সাজ মানে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, একদম লাল রঙা শাড়ি বা সাদা জামদানি আর লাল ব্লাউজ হাতে নকশা করা। বয়স ভিন্ন হলেও লাল-সাদার এই চিরচেনা সাজেই সবার মাঝে প্রতিফলিত হয় শারদ এই উৎসবের।

আরও

দিনের বেলাতে বের হওয়ার আগে সান প্রোটেকশন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। পোশাকের সঙ্গে মানানসই ব্যাগ নিন। আর সারাদিনের জন্য বের হলে ব্যাগে রাখতে পারেন ফেস পাউডার, লিপস্টিক, সানক্রিম, ফেসিয়াল টিস্যু, ছোট আয়না ও এক বোতল পানি। এতে পূজার আনন্দ আরও বেশি আনন্দময়  ও উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে