রোগ নিরাময়ে ভেষজ

প্রকাশ | ০৫ অক্টোবর ২০১৭, ১১:১১

অনলাইন ডেস্ক

ঋতু পরিবর্তন মানেই ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর আর বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আগমন। সেই ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধদেরও এসব রোগ থেকে মুক্তি মেলে না। রোগ সারাতে তখন তারা নানা অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্য নেন। কিন্তু অনেক সময় এসব অ্যান্টোবায়োটিক সেবনে কোন কাজ হয়না। কখনও কাজ হলেও রোগ সারাতে এসব ওষুধ অনেকটা সময় নেয়। আবার এর নানা পাশ্র্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে। কাজেই রোগ নিরাময়ে ভেষজই হলো সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকরী।

এক্ষেত্রে রোগ সারাতে কিছু ভেষজের কথা জেনে নিন-

ব্রণ সারাতে

ব্রণের সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকারী আপেলের তৈরি ভিনেগার ৷ ভালো করে মুখ ধোয়ার পর একটু তুলো আপেল ভিনিগারের মধ্যে ভিজিয়ে নিন। পরে সেই তুলো মুখের ব্রণের ওপর কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন, পরদিনই ব্রণটি ছোট হয়ে যাবে।

ডায়রিয়ায় গাজর

৫০০ গ্রাম গাজর একটু লবণ দিয়ে এক লিটার পানিতে ১ ঘন্টা সেদ্ধ করুন। তারপর ভালো করে চটকে নিন। দিনে কয়েকবার এই ঘন স্যুপটি খেলে পেটের জীবাণু প্রায় নির্মূল হবে। আর সেইসঙ্গে ভালো হবে ডায়রিয়াও।

গলাব্যথায় লবণ-পানি

লবণ-পানির গার্গল বা কুলকুচি গলাব্যথার একটা স্বীকৃত চিকিৎসা। ২৫০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে দিনে কয়েকবার গার্গল করুন। এতে শুধু প্রদাহ কমে না, জীবাণুও রোধ হয়। বিশেষ করে, রাতে ঘুমানোর আগে গার্গল করলে বেশ প্রশান্তি পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধে আদা-হলুদ

সেই প্রাচীনকাল থেকেই রোগ প্রতিরোধে আদা ও হলুদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই দুটো খাবারই বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। একইসঙ্গে হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ দূর করে, জয়েন্টের ব্যথা কমায়, কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে, রক্তস্বল্পতা দূর করে, সর্দি-কাশি নিরাময়ে প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধ আদা-হলুদের জুড়ি মেলা ভার।

ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক

১০০ গ্রাম রসুন, ৫ টি অর্গ্যানিক লেবু,৭০ গ্রাম আদা, ৩০ গ্রাম কাঁচা হলুদ ভালো করে ধুয়ে ছোট করে কেটে নিয়ে ১ লিটার পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে গুড়ো করে নিন। এক চিমটি কালো গোল মরিচের গুড়ো মিশিয়ে চুলোয় অল্পক্ষণ গরম করার পর ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার তরল ছেকে কাঁচের বোতলে ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন। শীতের মাসগুলোতে ঘরে তৈরি এই ‘ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক’ প্রতিদিন চার চামচ করে খেলে শীতের নানা অসুখকে দূরে রাখা সম্ভব।

মধুর অবদান

মধুর গুণের কথা আজ আর কে না জানে। আপনার কি ঠান্ডা লেগে গলায় আওয়াজ আসছে না? তাহলে দিনে কয়েকবার এক চা চামচ করে মধু ধীরে ধীরে খান। গলার ভাইরাস, সংক্রমণ এবং জীবাণু দমন করতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে এই মধু।

দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন?

দাঁতের মাড়ির ইনফেকশন এড়াতে প্রতিদিন গোসলের আগে এক টেবিল চামচ সূর্যমূখী তেল মুখের ভেতর নিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর মুখ থেকে তেল ফেলে দিয়ে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তেল মুখের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করে থাকে।