আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

  অনলাইন ডেস্ক

২০ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার মাঝে কিন্তু নিজের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বেড়ে যায়। তা পরিপূর্ণভাবে নিজেকে দেখা হোক কিংবা নিজের মুখশ্রীকে অনিন্দ্য সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হোক তাতে আয়নার কোনো জুড়ি নেই। তবে অন্দরে আয়না কথাটার মাঝে ‘ড্রেসিং টেবিল’ যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাহলে বলতেই হয় অন্দরের অন্যতম নন্দন ড্রেসিং টেবিল।

খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে, ড্রেসিং টেবিল মেয়েদের উপকরণে ভরপুর থাকলেও ছেলেদের জন্যও কিন্তু অপরিহার্য। নারী কিংবা পুরুষের নিত্যদিনের নিজেকে তৈরি করা, সচেতনভাবে অফিস কিংবা জরুরি কাজে নিজেকে পরিপাটি রূপে উপস্থাপনের জন্য আয়না কিংবা ড্রেসিং টেবিল ভূমিকা অসামান্য।

এবার চলে আসি ড্রেসিং টেবিলের কথায়। ড্রেসিং টেবিল, ড্রেসিং ইউনিট মানে কেবল সাজগোজের একটা নির্দিষ্ট আসবাব বললে কিন্তু ভুল হবে। ড্রেসিং টেবিল অন্দরের একটা প্রয়োজনীয় আসবাব। অনেক ক্ষেত্রে আয়না স্টোরেজসহ বড় একটা ড্রেসিং ইউনিট বা সিটিংসহ আভিজাত্যে ভরপুর একটা ড্রেসিং টেবিল অথবা অনেক আলোয় ভরপুর একটা মেকআপ মিররসহ ইউনিট করে বানিয়ে ফেলা যায় এই ড্রেসিং টেবিল।

কিছু ড্রেসিং টেবিল আছে নির্দিষ্ট অনুপাতের একটি আয়না ব্যবহার করে সঙ্গে ড্রয়ার ইউনিট আর ছোট-বড় কিছু বক্স স্টোরেজ বানানো হয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে লম্বা আকৃতির একটা মিরর ওয়াল মাউন্টেড থাকে আর পাশে দৈর্ঘ্য প্রস্থে ছোট ছোট কিছু বক্সের মতো স্টোরেজ করা হয়।

তবে বর্তমানে দেখা যায় মেকআপ মিররসহ ড্রেসিং টেবিল খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে সাজগোজ প্রিয় মেয়েদের কাছে। বেশ কিছু কৃত্রিম আলো আর পছন্দের মেকআপ উপকরণ সাজিয়ে রাখার জন্য এই মেকআপ মিররসহ ড্রেসিং টেবিল খুবই নান্দনিক।

কিনে ফেলা হোক আর বানিয়ে ফেলা হোক ড্রেসিং টেবিল দেয়ালের একটা পাশে স্থাপন করাই শ্রেয়। এতে করে ঘরটাকে যেমন বড় দেখাবে পাশাপাশি ড্রেসিং টেবিল অন্দরের একটি দৃষ্টিনন্দন আসবাবেও পরিণত হবে। আর ঘরে যদি জায়গা কম থাকে তবে বড় একটা আয়না দেয়ালে ফিক্সড করে লাগিয়ে ফেলা উচিত আর প্রয়োজন মতো ছোটখাটো কিছু ওয়াল হেঙ্গিং ডিসপ্লে বসিয়ে দিলে নিজের মতো করে কাস্টমাইজড ড্রেসিং টেবিল বানিয়ে নিতে পারেন।

আবার এর চেয়ে জায়গা সংকুলান হবে যদি আয়না সামনে দিকে রেখেই পেছনে ৬ ইঞ্চি গভীরতার একটা স্টোরেজ বানিয়ে ফেলা যায়। সেক্ষেত্রে, আয়নাটার দৈর্ঘ্য ৬৬ ইঞ্চি, প্রস্থ ৩০ ইঞ্চি করে নিলেই হয়। এতে করে সামনের দিকে হবে বড় একটা মিরর পাশাপাশি থাকল সাজসজ্জার বিভিন্ন উপকরণ রাখার মতো একটা উপযুক্ত স্টোরেজ।

আসলে ড্রেসিং টেবিলের সঙ্গে কিন্তু একটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার জড়িত থাকে। অনেকে ড্রেসিং টেবিলকে আভিজাত্যের সঙ্গেও তুলনা করে থাকেন। ড্রেসিং টেবিল শুধু সাজগোজের কথা মাথায় না রেখে জরুরি আসবাব হিসেবে ভাবাটাই ভালো, কারণ আয়নার পাশাপাশি বেশ কিছু স্টোরেজ আর ড্রয়ার ইউনিট কিন্তু করা সম্ভব। আর তাহলেই অন্দরের নন্দনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আসবাবে পরিণত হবে। অনেক সময় দেখা যায় ওয়াকিং ক্লজেট বা ফুল হাইট আসবাবের কোনো একপাশে আয়না সংযুক্ত করে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে আসবাবের উচ্চতার সঙ্গে একটা সামঞ্জস্য রেখে মাপ অনুযায়ী আয়না বসানো উচিত। মূল কথা হলো, সামঞ্জস্যতা এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।

সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় কপালের টিপ খুলে আয়নায় লাগিয়ে রাখে, এতে করে টিপের আঠা আয়নায় লেগে যায়। আর এই সামান্য আঠা পুরো ড্রেসিং ইউনিটের নন্দনে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই এই সমস্যার ছোট্ট সমাধান হলো, আয়নায় গ্লাস ক্লিনার দিয়ে খবরের কাগজ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে নিতে হবে। তাহলে তা আস্তে আস্তে উঠে যাবে, কোনো দাগ বা আঠাও থাকবে না। একইভাবে আয়নার ময়লা বা হালকা দাগও পরিষ্কার করে নেয়া যাবে। হালকা নরম কাপড় ব্যাবহার করা যেতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই টিস্যু, তুলা জাতীয় জিনিস ব্যবহার কথা ঠিক হবে না। এতে করে আয়না ঘোলাটে হয়ে যাবে।

‘আয়না দেখা’ পুরো কথাটাই যেন উপমায় ভরপুর। আর আয়নাকে প্রাধান্য করে তৈরি এই ড্রেসিং ইউনিট যদি যথাযথভাবে স্থাপন করা তবে সেই রুমের আমেজ অন্য সব রুম থেকে হবে ভিন্ন। নারী কিংবা পুরুষ আলাদাভাবে বিবেচনা না করে, ড্রেসিং টেবিলকে যদি একটি আসবাব হিসেবে বিবেচনা করা হয় তবে তা অন্দরের নন্দন বাড়াবে। এবং নিজেকে পরিপূর্ণভাবে তৈরি হতে ড্রেসিং টেবিলের আমেজ আসলেই অপরিহার্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে