বাচ্চাকে শূন্যে ছুড়ে আদরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ!

  অনলাইন ডেস্ক

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:২৪ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

শিশু দেখলেই কম-বেশি সকলের আদর করতে ইচ্ছা করে। কেউ কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। কেউবা আনন্দের অতিশার্যে শিশুকে শূন্যে ছুড়ে আদর করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা শিশুকে শূন্যে তুলে ঝাঁকান। সাবধান! এতে মারাত্মক বিপদ ঘটে যেতে পারে। এর ফলে শুধু মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নয়, আপনার শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সম্প্রতি এক মার্কিন গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, খোকাকে ঘুম পাড়ানো হোক বা আদর। কান্না থামানো হোক বা দুষ্টুমি বাগে আনা। দুরন্ত বাচ্চাকে সামলানোটাই চ্যালেঞ্জ। মায়ের কোলে দুরন্ত শিশু শান্ত হয় ঠিকই। কিন্তু অন্য সময়? আনন্দে-আহ্লাদে আটখানা হয়ে অনেকেই আদরের আতিশয্যে বাচ্চাকে শূন্যে ছুড়ে আদর করেন। বা কান্না থামাতে শিশুকে শূন্যে তুলে ঝাঁকান। এতে বিপদ বাড়ে।

গবেষকরা বলেছেন, শিশুকে আদর করুন। অনেক ভালবাসুন। যত্নে ভরিয়ে রাখুন। কিন্তু কখনও শূন্যে তুলে ঝাঁকাবেন না। তাহলে বিপদ!

৮০ শতাংশ চিকিত্সকের দাবি, ৩ বছরের ছোট শিশুকে ঝাঁকানো হলে শিশুর মস্তিষ্ক থেকে রক্ত বেরোতে পারে। একে সাবডুরাল হেমাটোমা বলে।

৯০ শতাংশ চিকিত্সকের মত, শিশুর মারাত্মক রেটিনাল রক্তক্ষরণও হতে পারে।

আর ৭৮ শতাংশ চিকিত্সকের দাবি, এর ফলে শিশুটি কোমায় চলে যেতে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

গবেষকরা বলেছেন, শিশুকে ঝাঁকানো হলে বারবার মস্তিষ্ক খুলির গায়ে ধাক্কা খায়। এতে মস্তিষ্ক ও খুলির মাঝে ছোট ছোট রক্তনালি ছিঁড়ে যায়। ফলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যেতে পারে। আবার রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। ওই অংশ ফুলে যেতে পারে। যেহেতু শিশুর ঘাড় সংবেদনশীল হয়, তাই ঝাঁকানোর ফলে পেশি ছিঁড়ে যেতে পারে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্পাইনাল কর্ড।

ব্রেনে মারাত্মক ইনজুরি হলে শিশু পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। অন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি শিশু বোবা-কালা হয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে