‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে....?

  আয়েশা সিদ্দিকা

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:২১ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

বসন্ত মানেই আগুন রাঙা ফাগুন। এ ফাগুনে প্রকৃতিতেই শুধু উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়ায় না, রঙ ছড়ায় প্রতিটি তরুণ প্রাণেও। প্রাণের টানে, আর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে মন হয়ে ওঠে উত্তাল, বাঁধনহারা। বসন্ত মানেই যেন পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। তাইতো এমন মধুর দিনেও শঙ্কা জাগে অধীর প্রতিক্ষায় থাকা কোন মনে। তাইতো জনপ্রিয় শিল্পী কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় যথার্থই গেয়েছিলেন-

‘যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে– জানি নে জানি নে॥
সে কি আমার কুঁড়ির কানে কবে কথা গানে গানে,
পরান তাহার নেবে কিনে এই নব ফাল্গুনের দিনে–
জানি নে, জানি নে॥’

আজ পহেলা ফাল্গুন। আর এই ফাল্গুনের হাত ধরেই বাংলার প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। বসন্তের আগমনে যেমন প্রকৃতি নানা রূপে, ফুলে-ফলে, পাতায়-পাতায় মেতে ওঠে। কোকিলের কুহুতান, দখিণা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন সবই এ বসন্তেই দেখা মেলে। আর তাই ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতির পাশাপাশি রঙ্গিন সাজে বর্ণিল উৎসবে মেতে উঠে তরুণ-তরুণীরা। এই দিনের সাজপোশাকেও তাই প্রাধান্য পায় ফুল। লাল, হলুদ, বেগুনি নানান ফুলের সমাহার। চারিদিকে শুধু ফুলের মৌ মৌ সুগন্ধ। তাইতো কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/ আজ বসন্ত’।

বসন্তের প্রথম সকালে বাসন্তি রঙা শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর, খোঁপায় গাঁদা ফুল জড়িয়ে বেরিয়ে পড়বে তরুণী-বধূরা। বাসন্তি পাঞ্জাবি, ফতুয়া পরা হাজারো ছেলে-বুড়োর ঢল নামবে বসন্ত বরণের নানা আয়োজনে। বসন্তের আমোদনে ফাগুনের ঝিরিঝিরি হাওয়া, রক্তিম পলাশ, শিমুল, কাঞ্চন পারিজাত, মাধবী, গামারী আর মৃদু গাঁদার ছোট ছোট ফুলের বর্ণিল রূপে চোখ জুড়াবে। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু, তাই সবারই মনে বেজে ওঠে, কবির এ বাণী- ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে’।

বসন্ত উৎসব বাঙালির প্রাণের উৎসব। বর্ষবরণ, নবান্ন উৎসব, পৌষমেলা-এসবের মতো বসন্ত উৎসবও বাঙালি চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহনশীলতা। দৃঢ়তর হয় মৈত্রীর বন্ধন। শুধু রাজধানীতে নয়, দেশজুড়ে বসন্তের আবাহনে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান। প্রকৃতি আর মানুষের এই মিলনমেলা গোটা দেশকে মাতিয়ে তোলে আনন্দ হিল্লোলে। ইথারে ইথারে তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাংলার ঘরে ঘরে।

ঋতুরাজের আগমনী দিনে তরুণ-তরুণীদের যেন আজ কোথাও হারিয়ে যেতে নেই মানা। বাসন্তী রঙা শাড়ি পরে, খোঁপায় গাঁদা, পলাশসহ নানা রঙের ফুল গুঁজে তরুণীরা বেরিয়ে পড়বেন। আর ছেলেরা লাল-হলুদ, বাসন্তী রঙ্গের পাঞ্জাবি আর ফতুয়ায় নতুন করে নিজেদের সাজিয়ে নেমে আসবে পথে। সেই আবেগে গুঞ্জরিত হতে থাকে ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে/সই গো, বসন্ত বাতাসে’।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ দিনভর চলবে তরুণ-তরুণীদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি।

বসন্তে মেয়েদের সাজ

পোশাক
ফাল্গুনে মেয়েদের প্রথম পছন্দ থাকে বাসন্তি কিংবা হলুদ রঙের পোশাক। এক্ষেত্রে বসন্ত বরণে সকলেরই প্রথম পছন্দ শাড়ি। এর পাশাপাশি চলে টিয়া, সবুজ, হলদে রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নানা ধরণের শাড়ি, চেক কাপড় ও অন্যান্য পোশাক। যারা শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তারা কামিজ, কুর্তি, টপস সব কিছুতেই আনুন বসন্তের ছোঁয়া।

জুয়েলারি
খাঁটি বাঙালিয়ানা সাজে সাজতে চাইলে বেছে নিন ফুলের গহনা। বিশেষ করে গাঁদা ফুলের তৈরি গহনা শাড়ির সঙ্গে সবচাইতে ভালো মানিয়ে যাবে। অথবা গাঁদা ফুলের মালার সঙ্গে গোলাপ ফুলের লকেট চমৎকার লাগবে। এছাড়া পুঁতির মালা চলবে সাজ পোশাকে। আর হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি তো থাকা চাই-ই চাই। শাড়ির সঙ্গে পরে নিন গোল একটি টিপ।

মেকআপ
সাধারণত ফাল্গুনে দিনের বেলা বেশি মেকআপ নিয়ে বাইরে না যাওয়াই ভালো। হালকা মেকআপেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠুন। এক্ষেত্রে ফেস পাউডার ও কনসিলার ব্যবহারে সাধারণ বেস মেকআপ দিয়ে নিন। হালকা করে ব্লাশন লাগান। কমলা রঙের লিপস্টিক বেছে নিন। চাইলে পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েও লাগাতে পারেন লিপস্টিক। গাঢ় ও মোটা করে কাজল লাগান। চুল বেঁধে নিতে পারেন খোঁপা করে কিংবা ছেড়ে রাখতে পারেন। কানে গুঁজে দিতে পারেন ফুল। ব্যস, হলে গেলো মেকআপ।

ছেলেদের সাজ

পোশাক
পাঞ্জাবী, ফতুয়া, টি-শার্ট যাই পড়ুন না কেন তাতে রাখুন ফাল্গুনের ছোঁয়া। পছন্দ করুন লাল, হলুদ, সবুজ রঙের অথবা এগুলোর চেক মিশেলের কাপড়। বেশ মানিয়ে যাবে।

আনুসাঙ্গিক
ছেলেদের তো গহনা বা মেকআপের প্রয়োজন হয় না। তবে একটু টুকিটাকি আনুসাঙ্গিক যেমন- হাতঘড়ি, সানগ্লাস, রুমাল প্রভৃতি সঙ্গে রাখতে পারেন। দারুণ মানিয়ে যাবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close
close