রান্নাঘরের সাজসজ্জা

  অনলাইন ডেস্ক

২২ জুলাই ২০১৭, ১১:০৭ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৭, ১১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম হল রান্নাঘর। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত— সময়ের একটা বড় অংশই গৃহিণীদের কাটে রান্নাঘরে। আবার ব্যস্ত জীবনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে হয়ত দেখাই হয় না। রাতে খাবার টেবিলে বসেই সারাদিনের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। তখন এই ঘরটাই ওঠে পারিবারিক যোগসূত্রস্থল। যাহোক, রান্নাঘরের সঙ্গে পরিবারের সকল সদস্যের ভালো থাকা জড়িয়ে থাকে। তাই সবার আগে এটি পরিষ্কার পরিচ্ছন রাখা খুব জরুরি। রান্নাঘর বড়-ছোট যেমনই হোক না কেন, পরিবারের সবার আরাম ও সুবিধার দিকটি চিন্তা করেই তা সাজানো উচিত। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার পাশাপাশি রান্নাঘরের সাজসজ্জায় থাকতে পারে খানিকটা শখের ছোঁয়াও।

জায়গার সঠিক ব্যবহার

রান্নার সময় সহজেই হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্য নিজের সুবিধামতো ছোটখাটো কিছু অদলবদল করে নিন। রান্নাঘরের রকমারি জিনিসপত্র মেইনটেন করার জন্য অ্যারেঞ্জমেন্ট খুবই জরুরি।

আসবাবপত্র ও ক্যাবিনেট

রান্নাঘরের আসবাবপত্র এবং ক্যাবিনেট কেনার আগে ভালো করে যাচাই বাছাই করুন। আপনার রান্নাঘরের জন্য যথাযথ জিনিসটিকেই প্রাধান্য দিন। ক্যাবিনেটে যথেষ্ঠ জায়গা থাকায় অনেক কিছু সেখানে রাখতে পারবেন। ক্যাবিনেটগুলো একেকটা বাসনের মাপ অনুযায়ী একেক রকম সাইজে বানিয়ে নিন।

যেমন—বোল বা প্যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটের চেয়ে আরেকটু লম্বা হবে ট্রে রাখার ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেটের দরজার ভিতরের দিকে নানা মাপের খুন্তা, হাতা, বড় চামচ ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখার আংটা রাখুন। জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু কিচেন ফার্নিচার বাতিল করে ফাঁকা ওয়ালস্পেসে কিছু হ্যাঙ্গিং ক্যাবিনেট ও শেলফ বানিয়ে নিন। এতে করে দেখতেও সুন্দর লাগবে, আবার চলাফেরার জন্য স্পেস বাড়বে।

বাসনপত্র

প্রতিটি ছোটখাট বাসনও নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন—লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ; এগুলো খাবার ঘরের সাইড-বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে। বাসনপত্র ধোয়ার পর, ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য সবসময় পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন।

সিঙ্ক ও গ্যাসের চুলা

যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোণা খোপ কেটে নিতে পারেন। আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। তাহলে রান্নার সময় এ ক্যাবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে সহজে নিতে পারবেন। সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিনগুলো গুছিয়ে রাখুন। রান্নাঘরে অবশ্যই একটি ঢাকনা দেওয়া নোংরা ফেলার বালতি রাখবেন।

ডিজাইনের ডিনার সেট

সুন্দর ডিজাইনের ডিনার সেট আপনার রান্নাঘরের সাজসজ্জার একটি অনিবার্য অংশ। ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ডিনার সেট ব্যবহারের চেষ্টা করুন। আবার দেয়ালের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিনার সেট রাখতে পারেন।

রং নির্বাচন

রান্নাঘরের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনার আগে থিম কিংবা রং নির্বাচন করা জরুরি। রঙের সঙ্গে মিল রেখে আনুষঙ্গিক বিষয় কিনলে রান্নাঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে।

শো পিস রাখুন

অনেক শো পিস রেখে রান্নাঘরকে কখনো আর্ট গ্যালারি করার চেষ্টা করবেন না। কিন্তু রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এমন স্থানে ছোট শো পিস রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বেশি দামি কিছু ব্যবহার না করলেও চলবে। ফুলদানিও ব্যবহার করতে পারেন।

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখতে করণীয়

রান্নাঘরের মেঝে কখনই অপরিষ্কার রাখবেন না। হাতের কাছে মোছার জন্য কাপড় বা ডাস্টার রাখুন। গ্যাসের পাইপের ওপরে গরম খাবার ফেলবেন না। টুকটাক সব দাগ পরিষ্কার করার জন্য লবণ, সোডা ও ভিনেগার ব্যবহার করুন। অনেক সময় দেখা যায়, গ্যাস ওভেনের চারপাশে ছলকে পড়ে শক্ত হয়ে যায়। এটা পরিষ্কার করতে এক চামচ লবণ আর গরম পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিলে দাগ ও তেলতেলে ভাব দুটিই চলে যাবে।

ওভেনের ভিতর পরিষ্কার করার জন্য বেকিং সোডা ছড়িয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ফ্রিজের ভিতরের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ কমানোর জন্যও বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। চিনামাটির কাপ, প্লেট থেকে কড়া দাগ পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগারে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর স্ক্র্যাবার প্যাডে সামান্য লবণ দিয়ে ঘষুন। এতে দাগ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি রান্নাঘরেও আসবে ভিন্নতা।
 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে