নারীরা বেশি অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় কেন?

  অনলাইন ডেস্ক

১০ মে ২০১৭, ১৩:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

অ্যাজমা বা হাঁপানি মূলত শ্বাসনালির প্রদাহজনিত একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে শ্বাসনালীর স্বাভাবিক ব্যাস কমে গিয়ে আগের চেয়ে সরু হয়ে যায়। ফলে শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়। এ রোগের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে বংশগত বা পরিবেশগত কারণে এ রোগ হতে পারে। আবার অ্যাজমা বা হাঁপানি হওয়ার কোন নির্দিষ্ট বয়সও নেই। তবে অ্যালার্জি, হাঁপানি এই সমস্যাগুলো পুরুষদের তুলনায় নারীদেরই বেশি হয়ে থাকে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা এমন কথাই বলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের টেস্টোস্টেরন হরমোন কম থাকে। তাই বয়ঃসন্ধির পর থেকে নারীদের মধ্যে অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকার কারণে তা এক ধরনের ইমিউন সেল তৈরির মাত্রা কমিয়ে দেয়। এই কোষই অ্যাজমার অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়। টেস্টোস্টেরন তাতে বাধা দেয়।

ফ্রান্সের সাইকোথেরাপি অধ্যাপক সিরিল সিলেট জানাচ্ছেন, পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যত বেশি হবে, অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। টেস্টোস্টেরন লিম্ফোয়েড কোষের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এই কোষের প্রাবল্যই অ্যাজমা অ্যাটাকের জন্য দায়ী। এই কোষকে বলা হয় আইএলসিটু কোষ। ফুসফুস ও ত্বকে এই কোষ তৈরি হয়।

জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণার ফল অনুযায়ী, টেস্টোস্টেরন আইএলসিটু-র উপর সরাসরি কাজ করে। ফলে পুরুষদের ফুসফুসে এই কোষের বৃদ্ধি বেশি হয় না।

এই কোষ প্রোটিন উত্পন্ন করে ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি করে। যার ফলে ফুলের রেনু, ধুলো, সিগারেটের ধোঁয়া, পোষ্যের লোম থেকে অ্যাজমা অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এই গবেষণার ফলের মাধ্যমে লিঙ্গ অনুযায়ী অ্যাজমার কারণ নির্ধারণ ও চিকিত্সা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে