স্বামীকে তিন তালাক দিলেন স্ত্রী!

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ জুন ২০১৭, ১২:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

তিনবার তালাক শব্দটি উচ্চারণ করে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করা মুসলিম সমাজের একটি প্রচলিত প্রথা।  আর এবার পড়াশোনা করতে না দেওয়ায় স্বামীকেই তিন তালাক দিলেন এক মুসলিম কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুরে।

এই মুসলিম কিশোরীর সাহসী পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবে শোরগোল পড়ে গেছে। অনেকে  মাম্পি খাতুন নামে ওই কিশোরীকে নোবেলজয়ী পাক-কন্যা মালালা ইউসুফজাইয়ের সঙ্গেও তুলনা করছেন।

কেউ কেউ অবশ্য তার পদক্ষেপের সমালোচনাও করছেন। তাদের মতে, মুসলিম সমাজে তিন তালাক দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র পুরুষদেরই।

তবে লোকে কী বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ ওই কিশোরী। তার সাফ কথা, মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো আমাকেও নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। আমাদের প্রত্যেককেই নিজের লড়াইটা নিজেকে লড়তে হবে। 

সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা মল্লিকপুরের মন্দিরবাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালান সারজুল ঘরামি।  তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে অভাবের সংসার।  ২০১৫ সালে একপ্রকার জোর করে মেয়ে মাম্পির খাতুনের বিয়ে দেন তিনি। তখন নবম শ্রেণিতে পড়ত মাম্পি। পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও, পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয় সে। তবে বিয়ের আগে স্বামী ও তার বাড়ির লোকের কাছে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিল সে,  বিয়ের পরও তাকে পড়ার অনুমতি দিতে হবে।

কিন্তু বিয়ের পরই ছবিটা পালটে যায়।  মাম্পির স্কুলে যাওয়া নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন তার শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা। শুরু হয় ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। এরইমধ্যে চলতি বছরে মাধ্যমিক পাস করে মাম্পি। কিন্তু, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা বললে, আপত্তি জানায় মাম্পির স্বামী। এর কিছুদিনের মধ্যে বাবার বাড়ি চলে যায় মাম্পি।  বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে দেয়,  সে আর শ্বশুড়বাড়িতে ফিরবে না। বাবার বাড়ি থেকেই পড়াশোনা করবে।  গত মাসে স্থানীয় একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় মাম্পি।

এই খবর পাওয়ার পরই মাম্পির বাবার বাড়িতে গিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু করেন শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। মাম্পিকে শ্বশুড়বাড়ি ফিরে যেতে জোরাজুরি করা হয়। এরপরই সবার সামনে স্বামীকে তিন তালাক দেন মাম্পি।  তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান মাম্পির বাড়ির লোকজনও।

মাম্পির মা বলেন, ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেয়ের বিয়ে দিয়ে ভুল করেছিলাম আমরা। আমাদের কাছে থেকে যতদূর খুশি পড়াশোনা করতে পারে ও।

তবে মাম্পির এই সিদ্ধান্তকে সকলেই যে ভালোভাবে নিয়েছেন, এমনটা নয়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মৌলানা আব্দুল মান্নান বলেন, একমাত্র পুরুষদের তিন তালাক দেওয়ার অধিকার আছে। মহিলাদের তিন তালাক দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে মাম্পির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাজি কাজি জালালউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়ার সমান অধিকার আছে।

সমাজকর্মী মীরাতুন নাহার বলেন, যারা এখনও মনে করে, মেয়ের কাছে বিয়েটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য, এই ঘটনা তাদের চোখ খুলে দেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে