advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মানবাধিকার কমিশনের ৮ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট ২০১৮ ১৮:৪৮ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০১৮ ১৮:৪৮
advertisement

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সন্মানজনক প্রত্যাবাসনে উল্ল্যেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এ বিষয়ে আটটি সুপারিশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

আজ সোমবার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এই সুপারিশগুলো জানানো হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের এক বছর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সুপারিশে বলা হয়, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা বিষয়ে যে পাঁচ দফা সুপারিশের কথা বলেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যতদিন রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পূণর্নিমাণ করা না হবে, ততদিন তাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাফার জোনে রাখতে হবে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর এ বিচার নিশ্চিতের দায়িত্ব জাতিসংঘের বলে মনে করছে মানবাধিকার কমিশন।

সুপারিশে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সার্বজনীন। জাতিসংঘ পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাই মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ব্যবস্থা জাতিসংঘকেই নিতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে একটি চুক্তি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়নে সরকারের মন্ত্রণালয় কতটুকু সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, তা আমার জানা নেই। তবে জাতিসংঘের কোনো দেশই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। তাই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সচিব হিরন্ময় বাড়ই, কমিশনের পরিচালক কাজী আরফান আশিক, কমিশনের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাইদ প্রমুখ।

advertisement