advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রসূতির পেটে মাথা রেখেই নবজাতকের দেহ বিচ্ছিন্ন করলেন নার্স-আয়া

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৬:২০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৬:২০
advertisement

প্রসূতির প্রসবের সময় পেটে মাথা রেখেই নবজাতকের দেহ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন দুই নার্স ও এক আয়া। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের ছেঁড়া হাত ও দেহ হাসপাতালের পরিত্যক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দেয় তারা। গত শনিবার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর দিন রোববার সকালে ওই হাসপাতালের পিছনে নবজাতকের কাটা হাত পড়ে থাকতে দেখে জানাজানি হলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসে। ওই প্রসূতি উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী।

প্রসূতির স্বামী সেলিম মিয়া ও স্বজনরা জানান, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রসব বেদনা থাকলেও কোনো চিকিৎসক না থাকায় সময়মতো সন্তান প্রসবের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পরে হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝর্না রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য বাইরের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে বলেন। এক পর্যায়ে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নার্স আছিয়া, ঝর্না ও ডলি নামের এক আয়া মিলে ফাতেমার প্রসব করাতে যায়। পরে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গভীর রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এর পর গতকাল ওই হাসপাতালে ফাতেমার অপারেশন করে পেটে থাকা সন্তানের মাথাসহ অর্ধেকাংশ বের করে আনা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে বলেও জানায় স্বজনরা।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর জানান, দায়িত্বশীল মেডিকেল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু ও ডা. নীলা পারভীনকে না জানিয়ে রাতে নার্স সিনিয়র স্টাফ নার্স আছিয়া, ঝর্না ও এক আয়া মিলে প্রসূতির গর্ভের সন্তান ডেলিভারির চেষ্টা করে। এ সময় সন্তানের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মাথার অংশ পেটে রেখেই তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনার তদন্তের জন্য দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তামান্না সোলেমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব একই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুর রহমান ও সদস্য মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, ‘দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে আমার কাছে যে তথ্য এসেছে তাতে আমি মর্মাহত হয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement