advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গর্ভাবস্থায় দূরে রাখবেন যে খাবারগুলো

অনলাইন ডেস্ক
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:৩৫ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১০:৩৮
advertisement

মানবজীবনের চার অধ্যায় শৈশব, কৈশোর, যৌবন আর বার্ধক্য। চার অধ্যায়ে নানা উত্থান-পতন, টানাপোড়েনে জীবন নিজের মতো করে চলতে থাকে। আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করি নানা বিষয়ে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটা চার অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ হলেও নারীরা কিন্তু আরও একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। এই বিশেষ সময়টা হলো প্রেগন্যান্সি বা গর্ভাবস্থা।

এই সময় একজন নারী নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়, শেখেন অনেক কিছু। এক নতুন জীবন জন্ম দেওয়ার জন্যে নানা দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। যে আসছে তার ভালো থাকার জন্য নিজের ভালো থাকাটাও যে অনেক জরুরি, এই বোধ একজন নারীকে সবসময় সচেতন করে তোলে। দায়িত্ববোধ আর কর্তব্যের এই মেলবন্ধন তাকে বারবার নতুন কিছু শিখতে এবং নিজেকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে এ সময় নিজেকে ভালো রাখতে কিছু খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই গর্ভাবস্থায় ‍নিজের ক্ষতি করে-এমন বেশ কিছু খাবার এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এবার এসব খাবার সম্পর্কে একটু জেনে নিই-

চিজ থেকে দূরে থাকুন

চিজ অনেকেই খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু আনপ্রসেসড চিজ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ এতে লিস্টেরিয়া নামক ব্যাক্টেরিয়া থাকে। একইভাবে নরম চীজে পানি বেশি থাকে, আর এতে করে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ বেশি হয়।

কাঁচা ডিম

কাঁচা ডিম বা হাফ সিদ্ধ ডিম গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবে না। একইভাবে প্রসেসড মিট বা রোস্ট খাওয়াকেও না বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে টকসোপ্লাজমা ব্যাক্টেরিয়া শরীরের মধ্যে গেলে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তবে সমুদ্রের মাছ খাওয়া ভালো, এতে ওমেগা -৩ থাকে। তবে সেই মাছও খেতে হবে পরিমিত।

মাল্টিভিটামিনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় নারীরা অনেকে খাবার খেয়ে থাকেন, যাতে ভিটামিনের অভাব শরীরে না হয়। কিন্তু এমন কোনো খাবার খাওয়া যাবে না যাতে বেশি পরিমাণে ভিটামিন-A আছে। এমনকি মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার আগেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাসি সালাদ বা কাটা ফল

সবুজ সালাদ স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী। অবশ্যই সালাদ খান কিন্তু কখনোই অনেক আগের কেটে রাখা সালাদ খাওয়া যাবে না। তাই বাইরের কাটা সালাদকে এখন থেকেই না বলতে হবে। অনেক আগের কাটা সালাদে লিস্টেরিয়া প্যারাসাইট থাকে।

ধূমপান ও মদ্যপান

যেকোনো ধরনের নেশাকে না বলতে হবে। ধূমপান বা অ্যালকোহল কোনোটাই এই সময় নেওয়া উচিত না। অতিরিক্ত ডোপামিন হরমোন ক্ষরণ এই সময় বাচ্চার ক্ষতি করে।

চা-কফি

অনেকের মধ্যেই চা বা কফি খাওয়ার প্রবণতা আছে। স্ট্রেস কমাতে অনেকে এক কাপ চা বা কফি বেছে নেন। কিন্তু এই সময় চেষ্টা করতে হবে এই প্রবণতা কমানোর। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে গেলে মিসক্যারেজের সম্ভাবনা বা কম ওজনের শিশু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

পেঁপে ও কলা

ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এই সময় ফল বা ফলের রস শরীরের পক্ষে উপকারী। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রেও একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কলা বা পেঁপে এমন সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হলেও গর্ভাবস্থায় না খাওয়া উচিত। কলা বা পেঁপেতে যে ফাইবার থাকে তা দেহের তাপ বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া তেঁতুলে ভিটামিন - সি থাকলেও এই ভিটামিন গর্ভাবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত যাওয়া উচিত নয়।

ঠাণ্ডা পানি

অনেকেই আছেন যারা বাজারের বোতলজাত ঠাণ্ডা পানি পান করতে ভালোবাসেন। খাওয়ার পর কিংবা যেকোনো সময় একটু গলা ভিজিয়ে নিলে আরাম পাওয়া যায়। অনেকে কাজের চাপে পান করতে চান এনার্জি ড্রিংক। কিন্তু এই সময় এগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারণ এতে থাকে সংরক্ষক থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

অ্যালার্জি হয় এমন  খাবার খাবেন না

বাইরে বা অন্য কোথাও গেলে খাবার খাওয়ার আগে জেনে নিতে হবে খাবারে এমন কিছু দেওয়া আছে কি না, যা থেকে আপনার অ্যালার্জি হয়।

ডাক্তারের পরামর্শ

গর্ভাবস্থার সময় যেকোনো নারীর জন্য খুব গুরুতপূর্ণ। তাই ভালো চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের ডায়েট বেছে নিতে হবে।

advertisement