advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পুরো চেইনটি প্রকাশ করা দরকার

অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:৩৯ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:২৫
advertisement
advertisement

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সারা দেশের ১ লাখ ৮২ হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। যাদের নামে কোনো আপত্তি নেই, এমন মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগেই প্রকাশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তি প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার আমাদের সময় অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 

যারা ভুয়া, তাদের দিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রসংশনীয়। অতি শিগগির এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করে সামাজিক ধিক্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের নামে ভুয়া কাজ করবে-এটা তো অমাজর্নীয় অপরাধ।

ভুয়া ‍মুক্তিযোদ্ধাদের কেবল তালিকা থেকে বাদ দেওয়াটাই ঠিক হবে না। এ বিষয়ে আবার তদন্ত করে দেখা দরকার যে, তারা কী করে ভুয়া তালিকাভুক্ত হলো? তারা নিজেরা কী কী অপরাধ করেছে, আবার এ তালিকাভুক্তির জন্য আরও কী কী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পুরো চেইনটি প্রকাশ করা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

যারা অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত, যারা ভুয়া তালিকা করেছে, তারাতো সমাজে আছে। তাদের অপচেষ্টা, অপরাধ প্রবণতা এটাতো তালিকা প্রকাশ করলেই রাতারাতি বন্ধ হবে না। অতএব এ বিষয়েও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ তারা আর না করতে পারে। সেজন্য এটা তদন্ত করে দেখা দরকার, যে ভুয়া তালিকা বের হয়েছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু ভুয়া তালিকাভুক্ত করল কারা, কিভাবে হয়েছে-এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন দেখার দরকার আছে।

এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের আইনের আশ্রয় নেওয়া দরকার। যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনার দরকার রয়েছে। কারণ অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা না গেলে আসল অপরাধ কমানো খুব মুশকিল।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে আমি ধন্যবাদ জানাই, তিনি এই ভুয়া তালিকা বের করছেন। ২০ হাজার যে বের হয়েছে, নিশ্চয় পুরো তালিকাটা উনারা খুঁজে দেখেই এটা বের করেছেন।

আমি জানি না পুরো তালিকা বাছাই করে এই ২০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া গেল, নাকি আংশিক বাছাই করে পাওয়া গেল। যদি আংশিক বাছাই করে ২০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় তবে আমরা বলব, পুরো তালিকাই আবার বাছাই করা হোক। যদি পুরোটা থেকে ২০ হাজার পাওয়া যায় তবে বোঝা যাচ্ছে যে, আমরা মোটামুটি একটি জায়গায় পৌঁছাছি।

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অনেক ভুয়া নাম আছে-এটি সাধারণ মানুষ অবহিত। কারণ আশেপাশের লোক যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশেই ঘোরাফেরা করছিল, তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আছে-এরকম আমরা জানি। এমনকি একাত্তর সালের ডিসেম্বরেও যাদের ক্যাম্পাসে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ঘুরতে দেখা গেছে, তাদের অনেকে আছেন মুক্তিয়োদ্ধার তালিকায়। এসব বিষয় সাধারণ মানুষ জানে। অতএব মন্ত্রী যে কথাটি বললেন, সেটি কার্যকর করা হোক-সেটাই আমাদের ইচ্ছা।

advertisement