advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত জরুরি

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:২৯
advertisement

গত রবিবার বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা পাইলট-ক্রুদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও যৌথবাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়। কমান্ডো অভিযানে প্রথমে ছিনতাইকারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্ট করা হয়। কিন্তু আত্মসমর্পণে অস্বীকার করলে উড়োজাহাজের ভেতরই গোলাগুলি হয় এবং সে নিহত হয়। গতকাল ছিনতাইকারীর পরিচয়ও পাওয়া যায়। তার নাম মো. পলাশ আহমদ। পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে। এ ঘটনা আবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দুই দফা নিরাপত্তা তল্লাশি। এর পরই বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢুকতে হয় যাত্রীকে। কিন্তু নিñিদ্র ও নিখুঁত নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাশ আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রবেশ করল কীভাবে? অবশ্য পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন পিস্তলটি ছিল খেলনা। তাই যদি হবে তবে কমান্ডো অভিযানে সে গুলি চালালো কীভাবে? যদিও এখনো পর্যন্ত সত্যিকার পিস্তল, নাকি খেলনা পিস্তল ছিল সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল না বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। গতকাল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যে তল্লাশি ব্যবস্থা, তাতে অস্ত্র নিয়ে উড়োজাহাজে যাওয়া সম্ভব না। আমরা মনে করি, এ ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত জরুরি। কেউ তাকে সহযোগিতা করে থাকলে বা কারও গাফিলতি ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা নতুন নয়। গুলশান হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে নানা পদক্ষেপের পরও তাতে যে ফাঁকফোকর আছে, তা আবারও টের পাওয়া গেল। এর আগেও ছুরি হাতে এক যুবক বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে এবং তার হামলায়ও এক আনসার সদস্যের মৃত্যু ঘটে। নিরাপত্তার প্রশ্নে একপর্যায়ে ঢাকা থেকে লন্ডন সরাসরি কার্গো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের যে কোনো দেশে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের নীতি অনুসরণ করা হয়। অথচ আমাদের কিছু ঘটনা প্রমাণ করে যে আমাদের বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সম্পর্ক রয়েছে। এর সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তিও জড়িত। সুতারং নিরাপত্তাব্যবস্থায় সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।