advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দ্রুত জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রয়োজন

৫ মার্চ ২০১৯ ১৭:১৪
আপডেট: ৫ মার্চ ২০১৯ ১৭:১৫

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক গবেষণায় উঠে এসেছে দেশে তামাক ব্যবহার ও পরোক্ষ ধূমপানজনিত নানা রোগের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয় বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর বাইরেও তামাক চাষের পরিবেশগত ক্ষতি, তামাক চাষে কৃষিজমি ব্যবহারের ফলে খাদ্যনিরাপত্তার হুমকি, অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ও ক্ষতি, পরিবেশ দূষণ এবং অন্য ক্ষতি রয়েছে, যা ওই গবেষণায় পরিমাপ করা হয়নি। আর ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হয়েছে।

তামাকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। দেশের প্রায় দুই কোটি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। মূল কথা হচ্ছে, তামাক দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। যদিও তামাক কোম্পানিগুলোর দাবি, এ খাত থেকে আহরিত রাজস্ব দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো,  গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক শিল্প থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা শুধু তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়ের চেয়েই সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা কম;  অন্য ক্ষতির হিসাব তো বাদই রইল। তা ছাড়া সাধারণ মানুষে একদিকে তামাকপণ্য কিনে অর্থ অপব্যয় করছে, অন্যদিকে তামাকজনিত রোগের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

advertisement

আশার কথা হলো, ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় স্পিকারদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। তার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতিমালা তৈরি করা দরকার। অবশ্য জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) ২০১৭ সালে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির খসড়াও প্রস্তুত করে।

তবে খসড়া তৈরির দুই বছর পার হলেও তা এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি। এমন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি আটকে থাকা সত্যি হতাশাজনক। তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাবেই জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি আটকে আছে।

যদিও সম্প্রতি নীতিটি নিয়ে আবার কাজ শুরু করেছে এনটিসিসি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যসূচিতে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি চূড়ান্ত করতে পুনরায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা, এবার আর নীতিটি হিমঘরে আটকে না থেকে যত দ্রুত সম্ভব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে আলোর মুখ দেখবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে তামাকের বিষ মুক্ত।

মাহামুদ সেতু : মিডিয়া ম্যানেজার, অ্যান্টি-টোব্যাকো প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ