advertisement
advertisement

কেমিক্যালের গুদাম সরাতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মার্চ ২০১৯ ০৯:১০

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, নিমতলীর ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যে কোনো কারণে তা হয়নি। এখন সরাতে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ধাক্কা দিয়ে তো বের করে দেওয়া যাবে না।

গতকাল বুধবার রাজধানীর নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ‘পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা সংকট ও সম্ভাবনা করণীয় এবং বর্জনীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ খান, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যানসহ পুরান ঢাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।

সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা যাবে না। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রয়েছে। নয় বছর আগে ব্যবসার ধরন যা ছিল এখন আরও বেড়েছে। এগুলো (কেমিক্যাল) ঢাকা থেকে দূরে নয়, আশপাশে সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অগ্নিকা-ের জন্য ক্ষতিকর ২৯টি দাহ্য পদার্থের তালিকা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আরও (কেমিক্যাল) পাওয়া গেলে আপনারা তা সরিয়ে নেবেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যালগুলো আপনারা সরিয়ে ফেলুন। এমন অনাকাক্সিক্ষত আরও দুর্ঘটনা যদি ঘটে যায়, তখন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তাই অপনারা সচেতন হোন, দ্রুত সরিয়ে নিন এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল। চুড়িহাট্টার আগুনের পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম, কারাখানা ও ব্যবসা নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর পর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে কেরানীগঞ্জের ৪০ একর জমিতে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সবাই একমত হলে ছয় মাস কেন তিন মাসের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যালের গুদাম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সাঈদ খোকন বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা চাই ক্ষতিকর কেমিক্যাল কারখানা যেন পুরান ঢাকায় না থাকে। এই টাস্কফোর্স ঝুঁকি নিরসন করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে টাস্কফোর্সের অভিযান চলবে। তবে কোনোভাবেই কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি বা দাহ্য পদার্থ নয় তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে না।