advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পিআর প্রফেশন বেশ সিকিউরড, সম্মানিও ভালো

১২ মার্চ ২০১৯ ১৮:৪০
আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯ ১৯:১২
advertisement

শেখ রাহাত অয়ন। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের জন্ম খুলনায়। বাবা শেখ আবদুল হাই একজন অবসরপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তা। তার মা হোসনে আরা খুলনার একটি বেসরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় বেশ আদরে বড় হয়েছেন অয়ন। মাধ্যমিক শেষ করে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টেন্টস (এসিসিএ) বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নাতক পর্ব শেষ করেন সাংবাদিকতায়। বেশ কয়েকদিন সাংবাদিতা পেশায় থাকার পর এখন তিনি একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআর)।

অয়নের পিআর পেশায় আসার শুরুটা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম ও নাসা স্পেস অ্যাপস বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর (পিআর অ্যান্ড কমিনিউকেশন) হিসেবে। এখন তিনি কাজ করছেন স্নোটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সারা লাইফস্টাইলের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কেন ক্যারিয়ার সাজালেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে আমাদের সময়কে শেখ রাহাত অয়ন জানান, সাংবাদিকদের সমাজের আয়না বলা হয়। তাই নিজেকে সমাজের একটি আয়না হিসেবে গড়তেই সাংবাদিকতা বিভাগে পড়া তার।

শেখ রাহাত অয়ন বলেন, এর আগে এসিসিএ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও গ্র্যাজুয়েশনের দরকার ছিল বলে মনে হলো। পড়তে এসে কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক সময় স্বপ্ন দেখতে শুরু করি করপোরেট জায়গায় মুভ করব। সে থেকেই প্রথমে সুযোগ পাই বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম, নাসা স্পেস অ্যাপস বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর (পিআর অ্যান্ড কমিনিউকেশন) হিসেবে কাজ করার। প্রায় দেড় বছর সেখানে কাজ করি।

এই জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ওই কাজের সুবাদে ৫৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট কো-অর্ডিনেট করার সুযোগ হয়। আর পিআর বিভাগটা যেহেতু সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, চ্যালেঞ্জ আছে পেশাটিতে। এখন আছি স্নোটেক্স গ্রুপের সারা লাইফস্টাইলের পিআর বিভাগে। বিভাগটির সম্পুর্ণ আমাকেই পরিচালনা করতে হচ্ছে।

অয়ন বলেন, বর্তমানে পিআর প্রফেশনটি বেশ জনপ্রিয় বলেই মনে হয়। পাশাপাশি এই প্রফেশনে জব করাটাও বেশ সিকিউরড। সম্মানিও বেশ ভালো। প্রায় প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসংযোগ কর্মকর্তা বা পিআর এখন অনেকটা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে গেছে। সবাই প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে এবং কাজের পরিধিও বাড়ছে। আমার মনে হয়, সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম নিয়ে পড়াশোনা করা সবার জন্যই এটি একটি আইডল প্রফেশন হতে পারে। 

পরিবারের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে শেখ রাহাত অয়ন বলেন, আমার বাবা একজন চিন্তামুক্ত মানুষ। জীবনকে বাস্তবতার মাধ্যমে দেখতে শিখেছি তার কাছ থেকেই। এটাই আমার জীবনের পথ চলার ক্ষেত্রে অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তার জীবন দর্শন নিয়ে আমিও একটি ভিন্ন পথে সফল হতে চাই।  আমার মা সহকারী অধ্যাপক। মায়ের আদর্শ নিয়ে আমি বাঁচতে চাই। আমি তার পরিশ্রম করার মানসিকতা, বিচক্ষণতা এবং সাবলীল মানসিকতা নিয়ে গর্ব করি। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিয়ে আমি আমার প্রফেশনেই এগিয়ে যেতে চাই। আমি তার কাছ থেকেই শিখেছি, যত বড় হও, ততই নম্র হওয়ার কথা। তবে, আমার প্রফেশন এবং জীবনের ক্ষেত্রে আমি আমার পরিবার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছি, যা আমার সব থেকে বড় শক্তি। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কী কী কাজ করতে হয়-এ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে শেখ রাহাত অয়ন বলেন, এই পদের প্রধান কাজ হলো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রেস্টিজিয়াস ইস্যুকে মেইন্টেইন করা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একটা ব্রিজ তৈরি করা। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর পণ্যের সংখ্যা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রচার-প্রচারণাও। এ ছাড়া সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মনে করে যে, তাদের সার্ভিস, প্রডাক্ট এবং ফেসিলিটিজগুলোকে আরও সঠিক এবং কার্যকর পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রেতা বা উপভোক্তাদের কাছে তুলে ধরতে  হবে। তখনই দরকার হয়ে পড়ে পাবলিক রিলেশন প্রফেশনালদের।

অয়ন বলেন, বাংলাদেশে জনসংযোগ পেশার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। দেশে ক্রমাগত উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দেশিয় অনেক শিল্পগোষ্ঠী তাদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের গণ্ডি থেকে বিদেশের মাটিতেও সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছে। ব্যবসায়িক প্রসারের জন্য জনসংযোগের গুরুত্ব অনুভব করে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেরাই জনসংযোগ বিভাগ খুলছে। সুতরাং জনসংযোগ পেশায় আগ্রহীদের আগামীতে সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।

আর নতুনদের সাহায্য করতে নানা প্রতিষ্ঠানে পিআর বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পাবলিক রিলেশন অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠনও আছে। খুবই সক্রিয় সংগঠন এটি। সাধারণত নতুনদের কাজে সহযোগিতা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

ছোট বেলা থেকেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের চর্চা করতেন অয়ন। তার পরিবারের সকলেই প্রায় গানের ভূবণে জড়িত। শিখেছেন নজরুল সংগীতও। তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের কিশোর বিভাগ ও সাধারণ বিভাগে প্রথম মানপ্রাপ্ত। শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন ওস্তাদ আলি আহমেদ, প্রদীপ রাহা ও বড় বোন ফারহানা ইয়াসমিন শাওনকেও। তিনি বলেন, আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। যখন দেখবো আর পারছি না, আবার গানে ফিরে যাবো। আমার ইচ্ছা, ৪০ বছর বয়স হলে সব ছেড়ে আবার গান শিখব। তাই, এখন টুকটাক সময় পেলে ম্যান্ডোলিন বাজাই।

নিজের জীবন সম্পর্কে অয়ন বলেন, আমি একজন মানুষ হতে চাই। ভবিষ্যৎ বলে না, আমি সব সময়ই বলি কথাটা। জানি না জীবনে কতটুকু সফল হতে পারবো। স্বপ্ন আছে নিজে কিছু করার। তার আগে বেশ কিছু বছর প্রফেশনালি কাজ করতে চাই।

নতুন যারা পিআর পেশায় আসতে চাইছেন তাদের জন্য কিছু উপদেশ দিয়েছেন সারা লাইফস্টাইলের এই জনসংযোগ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমি নিজেও নতুন, তবে একদম নতুন যারা এই প্রফেশনে আসতে চান, তাদের জন্য বলব; আপনারা নিজেদের গুটিয়ে রাখবেন না। কথা বলুন। নিজে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে যোগাযোগ করুন। কমিউনিকেশনের পরিধি বাড়ান। আর রাখুন একটি হাসি মুখ। আপনি নিজেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে পারবেন।

advertisement