advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উপেক্ষিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন : পরিপ্রেক্ষিত রাজশাহী মহানগর

১২ মার্চ ২০১৯ ২১:৫২
আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৯ ২১:৫২
advertisement

তামাকপণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, পুরস্কার-প্রনোদনা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোম্পানিগুলোর অবৈধ বিজ্ঞাপন আর পুরস্কার-প্রনোদনার মাধ্যমে কৌশলী প্রচারণা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষত রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের একটি পর্যবেক্ষণে তামাক কোম্পানিগুলোর এমন কূটকৌশল তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উপেক্ষিত হওয়ার স্বাক্ষর বহন করে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে মহানগরীর বিভিন্ন পাবলিক প্লেসেও দেদারছে চলছে ধূমপান। ফলে তামাকের ধোঁয়ায় স্বাস্থসম্মত ও পরিচ্ছন্ন রাজশাহী মহানগরী গড়ার যে গৌরব তা অনেকটা ম্লান হচ্ছে।   

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় সোয়া লাখ লোকের মৃত্যুর পরিসংখ্যানে আমরা আতঙ্কিত। তামাক সেবনে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আবার এই তামাক বা সিগারেট থেকে মরণনেশায় ধাবিত হয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাজারো মেধাবীর সোনালী স্বপ্ন অঙ্কুরেই থেমে যাচ্ছে। ফলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরিতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারে দেয়াল পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি সর্বপরি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যুগপোযোগী উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তামাকপণ্যের সকল বিজ্ঞাপন প্রচারণা আইনগত নিষিদ্ধ হলেও মহানগরীর সর্বত্রই অবাধে চলছে বিজ্ঞাপন পদর্শন। ভোক্তা ও বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের তামাক ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে উপহার। সম্প্রতি রাজশাহীর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ২৭৩৬টি দোকানে বিভিন্ন ধরনের তামাকপণ্য বিক্রয় করা হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ডে তামাকপণ্য পাওয়া যায় ৮৪টি দোকানে, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৫টিতে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১০৭টিতে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০টিতে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৮টিতে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬টিতে, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬২টিতে, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৯টিতে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৫টিতে, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৩টিতে, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪০টিতে, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৪৪টিতে, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৭টিতে, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১২৭টিতে, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৩টিতে, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৭টিতে, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩০টিতে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৬টিতে, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১২১টিতে, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬টিতে, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৩টিতে, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৯টিতে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০টিতে, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৯০টিতে, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬টিতে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫১টিতে, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৮টিতে, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫৮টিতে, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯৩টি দোকানে পাওয়া যায় এই তামাকপণ্য।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ সংশোধন) আইন, ২০০৫ (২০১৩) এর ধারায় বলা আছে- বিক্রয় স্থলে তামাকপণ্যের প্যাকেট বা মোড়ক সাদৃশ্য কোন দ্রব্য, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যাবে না। তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়ে প্রলুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে কোনো নমুনা, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে জনসাধারণকে প্রদান বা প্রদানের প্রস্তাব করা যাবে না। এ ছাড়া তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো উপহার, দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান আইনত দণ্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনের এই ধারায় অমান্যকারীর ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা জরিমান বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

আইনে সুস্পষ্টভাবে জেল-জরিমানার এ বিধান থাকলেও মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ দোকানে কোনো না কোনোভাবে এ আইন দেদারছে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মহানগরীর অভ্যন্তরে রাস্তার পাশের বিলবোর্ডগুলোতে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন নেই এটি সত্য, কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলোর কৌশল যেন নখদর্পনে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৩০টি ওয়ার্ডের যেসব দোকানে তামাকপণ্য বিক্রি করা হয় সেগুলোর প্রায় অর্ধেক দোকান বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানি ডামি সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে সুন্দরভাবে ডেকোরেশন করে দিয়েছে। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে- সিগারেট কোম্পানিগুলোর হ্যান্ডবিল, স্টিকার ও লিফলেট। দোকানগুলোর দোকানীকে তারা দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উপহার। এর মধ্যে রয়েছে- সুদর্শনীয় শো-কেস, দোকানির ছবিসহ পান-সিগারেটের বাক্স, গেঞ্জি, ছাতা, ঘড়ি, মগ এমনি নগদ টাকাও। এছাড়া  সিগারেট-বিড়ি কোম্পানীগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোম্পানির লোগো সম্বলিত শার্ট-প্যান্ট পড়েও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কৌশলী প্রচারণা। তরুণ-প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে কৌশলী এই প্রচারণায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানীসহ বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যাতে করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সহজেই ধূমপানে আকৃষ্ট করতে পারে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ৭০টি দোকানে তামাকপণ্য বিক্রি হয়। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দোকানগুলোতেও কোম্পানীগুলোর অবৈধ বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। পর্যবেক্ষণ চলাকালীন বেশ কয়েকটি দোকানীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দৈনিক বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট বিক্রি করেন প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার। হিসেব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই দৈনিক কমপক্ষে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার সিগারেট বিক্রি হয়। এ তো গেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিগারেটে পোড়ানো মাত্র একদিনের আর্থিক ক্ষতি। সারা বাংলাদেশের তামাক জনিত আর্থিক ক্ষতির পরিসংখ্যান দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবে। দেশে তামাক ব্যবহারজনিত আর্থিক ক্ষতি বছরে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা বা তিন দশমিক ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় আয়ের (জিডিপির) এক দশমিক চার শতাংশ। আর ২০১৮ সালে তামাকজনিত রোগে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। যা দেশের মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের যৌথভাবে করা এক গবেষণার পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় তামাক গ্রহণের কারণে অসংক্রামক সাতটি রোগের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিষয়ক ১০ হাজার বাড়িতে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, যারা তামাক ব্যবহার করেন না, তাদের চাইতে তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে তামাকজনিত প্রধান সাতটি রোগের একটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ বেশি এবং তামাকজনিত ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ১০৯ শতাংশ বেশি। গবেষণা আরও বলা হয়েছে, তামাকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। দেশের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ দুই কোটি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের শিকার।

তবে আশার কথা হচ্ছে- দেশে তামাপণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। ২০১৭ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সার্ভে (গ্যাট্স) এর রিপোর্ট অনুযায়ী- দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকপণ্য ব্যবহার করে। শতকরা হিসাবে এই হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে  ধোঁয়াযুক্ত তামাক ব্যবহার করে ১৮ শতাংশ এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। ২০০৯ সালে দেশে তামাকসেবীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ, যা শতাংশের হিসাবে ৪৩.৩ শতাংশ। আপেক্ষিক হ্রাস বিবেচনায় নিলে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার কমে যাওয়ার হার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এই তামাক ব্যবহারকারীদের বয়স ১৫ বছরের ওপরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন স্বাস্থ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান তা বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইতোমধ্যেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে দেশকে তামাকমুক্ত করা প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে একা সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে তাদেরকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতনা ও ধূমপানবিরোধী বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনায় সরকারকে অনেক বেশি বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। বিশেষত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বাজেটে এ সম্পর্কিত খাতে অনেক বেশি পরিমাণে বরাদ্দ রাখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

পদ্মাপাড়ের রাজশাহী নগরী দেশের তথা বিশ্বের অন্যতম গ্রীন ও ক্লিন সিটি। কিন্তু এই শহরে তামাকের ধোঁয়ায় দৈনিক পুড়ছে প্রায় কোটি টাকা, পাবলিক প্লেসে ধূমপানের ফলে প্রতিনিয়ত স্বাস্থহানি ঘটছে অসংখ্য মানুষের। আক্রান্ত হচ্ছে ধূমপানজতি নানা রোগে। কাজেই শিক্ষানগরী রাজশাহীকে হেলদি সিটিতে পরিণত করতে চাইলে ধূমপানমুক্ত নগরী গড়া অত্যাবশ্যক। এজন্য রাজশাহীর নগরপিতাকেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে সিটি করপোরেশনকে বেশি করে বাজেট বরাদ্দ  দিতে হবে। কেননা- রাজশাহীকে বিশ্বের অন্যতম মডেল সিটিতে পরিণত করতে অবশ্যই এটিকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা উচিত। আমাদের মনে রাখা দরকার- বিশ্বের প্রধান প্রধান মডেল সিটিগুলোতে কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে ধূমপানের কোনো নজির নেই। বর্তমানে রাজশাহী নগরী দেশের জন্য মডেল সিটি। ধূমপানমুক্ত নগরী গড়ার মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক- এটি আমাদের প্রত্যাশা। এর মধ্য দিয়ে দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায়কে নিয়ে যাবে অনেক দূর এগিয়ে। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ সংশোধন) আইন।

আমজাদ হোসেন শিমুল : সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব