advertisement
advertisement

রক্তের দুর্গন্ধ এফডিসি থেকে সরাতে হবে : ফারুক

১৪ মার্চ ২০১৯ ১৬:২৯ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৯ ১৬:২৯

ইতিবাচক আলোচনা না হলে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে দেশের সব সিনেমাহল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা। বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটেতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। তার এমন ঘোষণায় চটেছেন মিয়া ভাই’খ্যাত চিত্রনায়ক ও এমপি আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।

দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির পক্ষ থেকে যে ঘোষণা এসেছে, তা আমি শুনেছি। তাদের এমন কথা শুনে অবাক হয়েছি। এই ঘোষণার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটা ঘাড় বাঁকামির মতো কথা।’

চিত্রনায়ক ফারুক আরও বলেন, ‘আমি নিজে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কিছুদিন আগে যৌথ প্রযোজনার ছবির নামে প্রতারণা হচ্ছে, তা বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্র পরিবার। আমি নিজে ১৮টা সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করেছি। সেসময় আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছি, শুনেছি ও সমাধান দেওয়ার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, একটা পক্ষ নিজেদের মতো চলতে চায়। তারা অন্যের কথা বা চলচ্চিত্র শিল্পের কথা ভাবে না। এই শিল্প ধ্বংস হলে তাদের কিছু যায় আসে না। প্রদর্শক সমিতির নেতাদের উচিৎ, সবগুলো সংগঠনের সঙ্গে বসে একটি সুন্দর সমাধান বের করে আনা। এরপর সে সিদ্ধান্তের কথা মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরা। সবাই মিলে একটা সমাধান বের করা। এভাবে হুট করে সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া তাদের ঠিক হয়নি।’

হল মালিকদের দাবি, দেশীয় ছবির সংকটে ভুগছে ইন্ডাস্ট্রি। সাফটা চুক্তিতে ছবি আমদানির নীতিমালা আরও সহজ করতে হবে। প্রয়োজনে হলিউড ছবির পাশাপাশি বলিউডের হিন্দি ও উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের ছবি মুক্তির সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব, আমাদের শিল্প ও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকা মানুষগুলোকে আগে রক্ষা করার। তারপর অন্য দেশের কথা। হল মালিকদের এমন দাবি আগেও ছিল। তারা চায়, বিদেশিরা আমাদের দেশ থেকে টাকা নিয়ে যাক। আর আমরা কাজ শূন্য হয়ে মরতে বসি। হ্যাঁ, চলচ্চিত্র শিল্পে তাদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। তাদের কথাও ভাবতে হবে। এভাবে হুটহাট করে কোনো ঘোষণা দেওয়ার আগে, আলোচনা করা উচিৎ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এফডিসির ভেতরে রাজনীতির ব্যাপরটা সাংঘাতিক ভাবে বিরাজমান। এই এফডিসির ভেতর কেন এতে রাজনীতি? ১৯৭৫ সালের পর থেকে একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে। এখনও ওইটার দুর্গন্ধ এফডিসি থেকে সরে নাই। সেই রক্তের দুর্গন্ধ এফডিসি থেকে সরাতে হবে। এই দুর্গন্ধেই তো ছবি হয় না। এটা যখন সরে যাবে, তখন ছবি হবে। অনুরোধ করব, রেষারেষি বাদ দিয়ে ছবি বানান। মন দিয়ে কাজ করলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার সময় পাবেন না।’

সিনেমা হল বন্ধ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক আরও বলেন, ‘সিনেমা হল বন্ধ করে দিলে কি হবে, এটা কি তারা জানে? এই বন্ধ শিল্প নিয়ে সরকার কী করবে? বিক্রি করে দেবে। কেউ এটা কিনেও নেবে। তাদের এমন ঘোষণা থেকে বোঝা যায়, এফডিসির পেছনে লোক লেগেছে আছে। সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়ার কথা বাদ দিয়ে, চলচ্চিত্র শিল্প রক্ষা করার কথা ভাবুন।’