advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

১৫ মিনিটে কলেরা নির্ণয় করবে ‘কলকিট’

আমাদের সময় ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ১১:৪৩

মাত্র তিন ডলার বা ১৮০ টাকায় ১৫ মিনিটে কলেরা নির্ণয় করা যাবে দেশে উদ্ভাবিত ‘কলকিট’ যন্ত্রের মাধ্যমে। বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সহায়তায় তিন বছর গবেষণার পর আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা এ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। ইতোমধ্যে এটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতিও মিলেছে।

এ গবেষণা কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন আইসিডিডিআর,বির সংক্রামক রোগ বিভাগের বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী।

আইসিডিডিআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই রোগটির জন্য প্রধানত ‘ভিব্রিও কলেরি’ নামের একটি জীবাণু দায়ী। অন্যদিকে নতুন উদ্ভাবিত এ যন্ত্রের মাধ্যমে ইমিউনো ক্রোমাটোগ্রাফিক ডিপস্টিক পদ্ধতিতে কলেরা পরীক্ষা করা হয়। এতে মলের নমুনাযুক্ত টিউবের মধ্যে ডোবালে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল দেখায় এবং তা খালি চোখে রঙিন ব্যান্ডে দেখা যায়। বর্তমানে একটি নমুনা পরীক্ষায় খরচ হয় ৮ ডলার বা ৬৪০ টাকা। তবে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু হলে খরচ কমে যাবে। এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে এ কলকিট।

কলকিটের গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষাসংক্রান্ত একটি নিবন্ধ সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘প্লস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস’-এ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় ৭ হাজার ৭২০ রোগীর মলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, কলকিটের সংবেদনশীলতা শতকরা ৭৬ ভাগ ও নির্দিষ্টতা শতকরা ৯০ ভাগ। অন্যান্য প্রচলিত আরডিটির ক্ষেত্রে এগুলো ছিল যথাক্রমে শতকরা ৭২ ও ৮৬.৮ ভাগ। আইসিডিডিআর,বি এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ কলকিট বাংলাদেশের ২২টি কলেরা জরিপ সাইটে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, কলেরা রোগের দ্রুত শনাক্তকরণের ওপর এ রোগের ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। বর্তমানে কলেরা শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে গবেষণাগারে মলের কালচার পরীক্ষার পাশাপাশি আমদানিকৃত দ্রুত রোগনির্ণয় কিট ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এখন বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন একটি আরডিটি কলকিট রয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলেরা প্রতিরোধ উপকরণের মাধ্যমে এই রোগের মোকাবিলা সম্ভব। বাংলাদেশে কলেরার ২২টি সার্ভিল্যান্স এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সবচেয়ে বড় সার্ভিল্যান্স এলাকা। কলকিট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে সার্ভিল্যান্সের খরচ অনেক কমে যাবে।