advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট থাকবে না

কাজল আর্য,টাঙ্গাইল
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ১১:৩১

প্রখ্যাত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সমাজের বিত্তশালীরাও মানবতার সেবায় এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের সেবা, নারী শিক্ষার প্রসারে রণদা প্রসাদ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, সমাজের বিত্তশালীরা যেন এভাবেই মানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন। তা হলে আমাদের দেশের মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক বিতরণ ও কুমুদিনী ট্রাস্টের ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশা প্রকাশ করেন। কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক হাতে অর্থ উপার্জন করতেন, আরেক হাতে বিলিয়ে দিতেন। মেয়েদের শিক্ষায়, চিকিৎসায় তিনি অর্থ দান করেছেন। মানুষকে মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। কুমুদিনী ট্রাস্টের মাধ্যমে অনেক কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনগণের কল্যাণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে কুমুদিনীর ট্রাস্টের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবায় সবসময় আমাদের সহযোগিতা থাকবে।

এর আগে শেখ হাসিনা সেখানে ৩১টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি কুমুদিনী কমপ্লেক্সে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর শারীরিক কসরত উপভোগ করেন। তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল অ্যান্ড বিএসসি নার্সিং কলেজসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সেবাধর্মী বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন।

এ বছর ‘রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক’ ২০১৯-এ ভূষিত হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর) এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা এবং কবি নজরুলের পক্ষে তার নাতনি খিলখিল কাজী স্মারক গ্রহণ করেন।

কুমুদিনীতে প্রথম আসার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৫৬ সালে আমি যখন ছোট্ট ছিলাম, বাবার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) সঙ্গে এই সুন্দর জায়গাটায় এসে ভর্তি হতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল, মা-বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল, সেই একাত্তর সালেই ৭ মে হানাদাররা নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলে। তাদের পরিবার আর কখনই তাদের ফিরে পায়নি। স্বজন হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, এই বেদনা যে কত যন্ত্রণাদায়ক সেটা আমরা বুঝতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই কিন্তু আমার যাত্রা শুরু। আমি বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে যখন এ মাটিতে ফিরে আসি, আমার চারদিকে শুধু অন্ধকার। কিন্তু একটাই আলোকবর্তিকা পেয়েছিলাম, সেটা হলো বাংলাদেশের জনগণ। সেই জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। জনগণের আস্থা পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সেবার জন্য আমার বাবা বাংলাদেশ স্বাধীন করে গেছেন। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন সেই আকাক্সক্ষা নিয়েই তিনি তার সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আর তারই পাশে ত্যাগ স্বীকার করেছেন আমার মা। আমি সেই কথাটা সব সময় মনে রেখেছি, আমার বাবা কী করতে চেয়েছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজের একটু যদি আমি করতে পারি, তা হলেই মনে করব এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বাংলাদেশকে আজ আর কেউ দরিদ্র দেশ হিসেবে অবহেলা করতে পারে না উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আজ আর কেউ করুণার চোখে দেখে না। বরং সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, ১০ বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।