advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০১:৩১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা কমছে না; বরং নতুন ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ। নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে চার প্রার্থীর আমরণ অনশন শুরুর এক দিন পর বুধবার সন্ধ্যা থেকে পুনর্নির্বাচনসহ বেশকিছু

দাবি আদায়ে রোকেয়া হলের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন হলটির পাঁচ ছাত্রী। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস পদে বিজয়ী প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অনশনকারী এসব ছাত্রী ও তাদের সমর্থনকারীদের তিনি দলবলে হেনস্তা করেছেন। এ অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন অনশনকারী ছাত্রীরা। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনশনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও। এদিকে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, হলের গেটের বাইরে হেনস্তার ঘটনা তার উদ্বেগের কারণ নয়। তিনি উদ্বিগ্ন হলের শিক্ষার্থী যারা হলের বাইরে অনশন করছে, তাদের হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া। সর্বশেষ, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ ও হল সংসদ নির্বাচনের পুনতফসিল ঘোষণায় ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে অনশন স্থগিত করেছেন রোকেয়া হলের ৫ ছাত্রী। প্রক্টর গোলাম রাব্বানী, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও হলের টিউটররা এসে তাদের অনশন তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা এ ঘোষনা দেন।
এদিকে ভিপি পদে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে গতকাল রাত পর্যন্ত কিছু বলেননি নুরুল হক নুর। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে তার দেওয়া তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হবে আজ। এর পরই তিনি তার সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে একদিকে যখন চলছে আমরণ অনশন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি, অন্যদিকে তখন চলছে ডাকসুর নতুন নেতৃত্বের অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও।
পুনরায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমরণ অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী। হলের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরুর পর তাদের সমর্থন জানিয়ে হলের ফটকের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শতাধিক নেতাকর্মীসহ রোকেয়া হলের সামনে আসেন গোলাম রাব্বানী। তিনি অনশনস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রক্টরকে বলেন, ‘হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছে। এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন।’
এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম-বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী। রাব্বানী অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থক, যারা হলের গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, ‘রাত দুইটার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রী সংস্থা? শিবিরের কর্মী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’
অনশনকারী শ্রবণা শফিক দীপ্তি জানান, চার দাবিতে তারা অনশন করছিলেন। বুধবার রাতে গোলাম রাব্বানী তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের এবং সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন।
জানতেন না প্রভোস্ট
রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের হেনস্তার বিষয়ে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে জিনাত হুদা বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো হাউস টিউটরও আমাকে অবগত করেননি। তারা হলের গেটের বাইরে গিয়ে অবস্থান করছে। সেখানে হেনস্তা হওয়ার ঘটনাটি আমাদের কনসার্ন না। আমাদের কনসার্ন তাদের গেটের বাইরে থেকে হলের ভেতরে নিয়ে আসা।
অনশনকারীদের সঙ্গে নুর ও ছাত্রদলের একাত্মতা প্রকাশ
রোকেয়া হলের সামনে অনশনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই যুগ্ম আহ্বায়ক সংগঠনটির অন্যদের সঙ্গে নিয়ে অনশনস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় নুর বলেন, এত কারচুপির পরও আমি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। তবু আমি আমার বোনদের উত্থাপিত পুনর্নির্বাচনসহ চারটি দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। তিনি বলেন, আমাদের বোনদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে, হেনস্তা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা যারা বাস্তবায়ন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।
রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ মিথ্যাচার করছেন অভিযোগ করে নুরুল হক নুর বলেন, আমার সহযোদ্ধা ফারুক হাসান, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা লিটন নন্দী, স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খানসহ আমরা সেদিন রোকেয়া হলে গিয়েছিলাম। অভিযোগ ছিল, গোপনে ব্যালটে সিল মারা হচ্ছে। সেটিই দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের দেখতে দেননি; বরং তিনি আমাদেরও নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আমাদের মারার জন্য ছাত্রলীগের লেডিমাস্তান বাহিনীসহ কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারিকে ডেকেছিলেন। আর আমার বোনরা যখন অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সেøাগান দিচ্ছিল, তখন তাদেরও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
এর পর সেখানে সংহতি জানাতে আসেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে ডাকসুর সহসভাপতি প্রার্থী মোস্তাফিজ রহমান। তিনি বলেন, ছাত্রীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। ছাত্রদল তাদের সঙ্গে থাকবে সব সময়।
রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশন অব্যাহত
ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ডাকসু ও হল সংসদের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছয় শিক্ষার্থীর অনশন তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অনশনে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ এসে যতক্ষণ না তাদের আশ্বস্ত করছেন, ততক্ষণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তারা।