advertisement
advertisement

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অভাবনীয় একপেশে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০৮:২১

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি ছিল অভাবনীয় একপেশে। তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বলেও বিবেচিত হয় না। নানা অনিয়ম, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা এবং বিরোধী দলের এজেন্ট ও ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনারও অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশের ২০১৮ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বাংলাদেশের নির্বাচন ছাড়াও উঠে এসেছে গুম-খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, বেআইনি গ্রেপ্তার, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা, প্রধান বিরোধী নেতা খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখাসহ বিভিন্ন ইস্যু। বাংলাদেশ অংশে সারসংক্ষেপের শুরুতেই বলা হয়-সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচার চলাকালে বিরোধীরা ব্যাপক হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও সহিংসতার শিকার হন। এতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের জন্য জমায়েত হওয়া, স্বাধীনভাবে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সঠিক সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা পাননি। শুধু ২২টি সংস্থা অভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে; কিন্তু সরকার খুব কমই এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে থাকে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখনো দুর্নীতি। ২০১৮ সালে টিআইবির জরিপ থেকে জানা যায়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। মিথ্যা অভিযোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আটকের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের মতো ঘটনা ঘটছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধুয়ো তুলে তাদের মিথ্যা অভিযোগে আটক এবং বিচারের মুখোমুখি করা হয়। বছরজুড়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির হাজার-হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে বলা হয়, তার এই সাজায় তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে তাকে দূরে রাখতেই এমন সাজা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়। তাকে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় যে কেউ দ্রুত জামিন পেয়ে থাকেন; কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা এক মাসের মতো লেগে যায়। মার্চের ১২ তারিখ যখন হাইকোর্ট এ মামলায় জামিন দেন, এর পরপরই সুপ্রিমকোর্ট ২ মাসের জন্য তা স্থগিত করে দেন।

পরে জামিন পেলেও অন্য মামলায় সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। বাক-স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেলফ সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকছেন। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ২৩ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।