advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

আগাম বন্যার আশঙ্কা

মো. মাহফুজুর রহমান ও নজরুল মৃধা
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:৪৩

শুষ্ক মৌসুমেও তিস্তার পানি গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ মুহূর্তে যেখানে ৬০০ কিউসেক পানি থাকার কথা, সেখানে গতকাল ছিল কয়েক গুণ বেশি, যা ৪ হাজার কিউসেকের ওপর হতে পারে।

এছাড়া বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের অন্য প্রধান নদীগুলোতেও পানি বাড়তে শুরু করেছে। যদিও ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা এখনো বিপদের আভাস না দিলেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েক দিনের মধ্যে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এতে এ বছরও বর্ষার আগেই আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, গত মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬২ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের এ মাত্রা অব্যাহত থাকবে। মার্চের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। এ মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুদিন শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি অথবা তীব্র কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা-মাঝারি বজ্রঝড় হতে পারে। এ মাসেই আগাম বন্যার শঙ্কা আবহাওয়াবিদদের।

এ মাসেই দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসের শেষ দিকে দাবদাহ ও আগামী মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলো প্লাবিত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরাঞ্চল। এখন সেখানে মাঠ ভরা ফসল।

এ অবস্থায় আকস্মিক বন্যায় ফসলি জমি প্লাবিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও। এদিকে আগাম বন্যা বা যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সারাদেশে জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান এক নির্দেশনায় পাউবোর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছেন।

সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সেখানে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে একের পর এক ফসল রক্ষাবাঁধ ধসে কৃষকের কাঁচাপাকা ধান তলিয়ে যায়। সেই ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি কৃষকরা। তখন অভিযোগ ওঠে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের। সুনামগঞ্জ পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণে ৫৬৭টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

হাওর বাঁচাওÑসুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, সবকটি উপজেলায় বেশিরভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে নীতিবহির্ভূতভাবে। চলতি মৌসুমে ফসল রক্ষাবাঁধ মেরামতের নামে প্রায় ২০০টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এ নিয়ে জেলা শহরসহ সব উপজেলায় কয়েক দফা মানববন্ধন করেছেন কৃষক নেতারা। জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ মেরামতকাজের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো অর্ধেক কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)।

এদিকে পাউবো দাবি করছে, বাঁধ মেরামতকাজে পিআইসিরা এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু বাস্তবে বাঁধের ৬০ শতাংশ কাজ এখনো সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ছাড়া পিআইসির কমিটি গঠনসহ বাঁধ মেরামতকাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় হাওর এলাকার বছরের একমাত্র বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা।