advertisement
advertisement

সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ভারতের পাশে বাংলাদেশ

আলী আসিফ শাওন
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:৪৯

ভারতের কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির বিশেষায়িত বাহিনী সিআরপিএফের গাড়িবহরে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে ফের আলোচনায় পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)। খোদ জেইএম এ হামলার দায় স্বীকার করলেও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা তা বরাবর অস্বীকার করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে উত্থাপিত লাগাতার অভিযোগও কানে নিচ্ছিল না ইসলামাবাদ।

কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ দেশটির অনেক নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সেখানে জেইএম সক্রিয় আছে। ফলে চাইলেও জেইএমকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি লুকোতে পারছে না ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এ ইস্যু কেন্দ্র করেই হামলা-পাল্টাহামলায় যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। তবে আন্তর্জাতিক চাপে এই উত্তেজনা কিছুটা নিরসন হলেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত তার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানিয়ে দিয়েছেন জঙ্গিবাদের বিপক্ষে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দাও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নিন্দা জানান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলওয়ামা হামলার ঘটনা ও জেইএমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

যদিও পাকিস্তান দাবি করেছেÑ তারা জঙ্গি দমনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এ উদ্যোগ আসলে লোক দেখানো। বাংলাদেশও এ হামলার নিন্দা ও সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্সের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে বলাই যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্পষ্টই ভারতের পাশে রয়েছে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতার নীতি পোষণ করে এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছি।