advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

হত্যার সময় ঘটনাস্থলে ছিল মেজর জিয়া

আদালত প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:৩৯

সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়ার পরিকল্পনা ও নির্দেশেই মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্য করে আনসার আল ইসলামের জঙ্গিরা। এ সময় হত্যাকারীদের যাতে কেউ ধরতে না পারে সেজন্য ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছিল মেজর জিয়া ও আরেক জঙ্গি। অভিজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তারা ঘটনাস্থলে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ফেলে পালিয়ে যায়।

গত বুধবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ ইন্সপেক্টর মুহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিজিৎ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। তাতেই ঘটনার বিবরণে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

চার্জশিটে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (পুরনো নাম আনসারল্লাহ বাংলা টিম) ৫ সদস্যসহ ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা থেকে ১৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে ২৫ মার্চ। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেনÑ মেজর জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আবদুল্লাহ, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে শামস ওরফে সাজ্জাদ, মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ও মো. আবু সিদ্দিক ওরফে সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে সাহাব ও শফিউর রহমান ফারাবী। আসামিদের মধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন।

অপর আসামিদের মধ্যে সায়মন, সোহেল ও আরাফাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। আর অভিজিৎকে হত্যায় ফেসবুকে উসকানিদাতা হিসেবে শফিউর রহমান ফারাবিকে আসামি করা হয়েছে। যে ১৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেনÑ সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান গামা, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আবদুর সবুর ওরফে রাজু সাদ, মাইনুল হাসান শামীম, মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি, আবুল বাশার, মকুল রানা, সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তু।

এদের মধ্যে প্রথম সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া, মান্না ইয়াহিয়া ও আবুল বাশার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায়, মকুল রানা বন্ধুকযুদ্ধে মারা যাওয়ায় এবং অপর পাঁচ আসামির নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে ৩৪ জনকে। চার্জশিটে বলা হয়, ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে অপপ্রচার ও মহানবীকে নিয়ে কূটক্তি করায় মেজর জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎকে আনসার আল ইসলামের জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে।

হত্যার দুদিন আগে থেকে জঙ্গি সায়মন, সোহেল, আকরাম ও হাসান অভিজিৎ রায়ের গতিবিধি অনুসরণ করেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আরাফাত, খলিল ওরফে আলী, অন্তু ও অনিক হত্যাকা-ে অংশ নেয়। এ সময় মেজর জিয়া তার আরেক সঙ্গীসহ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে, যাতে হত্যাকারীদের কেউ আটক করতে না পারে। অভিজিৎকে কোপানোর সময় একজন রিকশাচালক এগিয়ে এলে আনিক চাপাতি উঁচিয়ে ভয় দেখায়।

হত্যাকা-ের পর তারা ঘটনাস্থলে চাপাতি ফেলে পালিয়ে যায়। চার্জশিটে অভিজিৎ হত্যায় ফেসবুকে উসকানিদাতা হিসেবে শফিউর রহমান ফারাবিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি অভিজিৎকে হত্যার বিষয়ে ফেসবুকে ও অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট দিতেন। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা।

এ সময় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। অভিজিত ও বন্যা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।