advertisement
advertisement

ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিপদের মুখোমুখি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০১:৩৮

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দুর্নীতি কমবেশি সব দেশেই আছে। এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেকের ধারণাÑ সত্য-মিথ্যা আমি জানি না, ব্যাংক ও আর্থিক খাত বিপদের মুখোমুখি। তিনি বলেন, একসময় ব্যাংক ছিল সবার প্রিয় জায়গা। আর মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়। ব্যাংক খাতের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে তিনি কাজ করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকে তাকে বলেছেনÑ এ মন্ত্রণালয় চালানো অনেক কঠিন। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। এখানে এসেছেন বিখ্যাত ব্যাংকিং খাত গড়ে তুলতে। এ জন্য খেলাপি ঋণ আর বাড়তে দেওয়া যাবে না।

খেলাপি ঋণ না বাড়লে এমনিতেই সুদহার এক অঙ্কের অনেক নিচে নেমে আসবে। তখন আর সুদহার নিয়ে কথা বলতে হবে না। তবে স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি চলতে পারে না। এ রকম হলে মানুষ কীভাবে টাকা ফেরত দেবে। আর এ জন্য বন্ড মার্কেট বিকশিত করা হবে। বন্ড মার্কেট থেকে দীর্ঘমেয়াদে টাকা তোলা গেলে আর সমস্যা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ‘ইনসলভেন্সি আইন’ রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে নেই। খুব শিগগির এ আইন করা হবে। মুস্তফা কামাল বলেন, তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বোঝেন ব্যবসা করে টাকা ফেরত দেওয়া অনেক কঠিন। এ জন্য ভালো ব্যবসায়ীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেবেন। ব্যবসায়ীদের অনেকেই জেলে যাওয়ার ভয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন।

১/১১-এর সময়ে তাকেও জেলে ঢোকানো হয়েছিল। যদিও তিনি জানেন না তার অপরাধ কী ছিল। দুই বছর পর তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছিল। এর পর তিনিও একবার চিন্তা করেছিলেন বাইরে চলে যাবেন। তবে দেশের কথা চিন্তা করে আর যাননি। দেশের উন্নয়নের করের পরিধি আরও বাড়াতে হবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যারা ট্যাক্স প্রদান করেন, তারাই বারবার ট্যাক্স দিচ্ছেন।

কিন্তু নতুন করে করের আওতায় আসার উপযোগী অনেক মানুষ এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। তাই আগামী বাজেটে আমি এ অপবাদ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে চাই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে আগামী বাজেটে একজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাসও দেন অর্থমন্ত্রী। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে কোনো গরিব লোক থাকবে না বলেও জানান তিনি।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, অনেক খাতে উন্নয়ন হলেও ব্যাংকটি ২০১৮ সাল শেষে ৮৮৩ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ব্যাংকটির যে খেলাপি তা আরও কম হতে পারত। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। তিনি খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার ও ব্যাংকের সব পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতেরও তাগিদ দেন। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা উচ্চআদালতে রিট নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা।

এ জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন এবং রিটের সঙ্গে ডাউনপেমেন্টের শর্তজুড়ে দেওয়া গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত এখন স্বল্পসুদে আমানত নিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে বিতরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংকুলান করার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকটির সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।

এ সময় ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৩ হাজার ৫৫১ কোটি ও ৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে ১২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ব্যাংকটি ৯৫৭ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে। গত বছরে আমানত বেড়েছে ১৭ শতাংশ, ঋণ ২৪, মুনাফা ১৮ ও সুদ আয় ১২৮ শতাংশ বেড়েছে। লোকসানি শাখা কমে হয়েছে ৫৬টি এবং খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।