advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ১১:৩৫

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল। গতকাল নেপালের বিরাটনগর সাহিদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারায় সাবিনা, মৌসুমিরা। এক জয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল পরিষ্কার, জিতলেই শেষ চার।

এমন সমীকরণ নিয়ে ভুটানের মুখোমুখি হয়ে খারাপ করেনি গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং সহ-অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমির গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

আর টানা দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিল ভুটান। দলটি এর আগে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়। বাংলাদেশ জেতায় এক ম্যাচ হাতে রেখে নেপালও চলে গেছে সেমিফাইনালে। ভুটানের বিপক্ষে সাফে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১০ সালে ৯-০ এবং ২০১২ সালে ১-০ গোলের জয় লাল-সবুজদের। মাঝে দুই আসরে দেখা হয়নি বাংলাদেশ-ভুটানের (২০১৬ ও ২০১৮)। কাল সাত বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার নারী বিশ্বকাপখ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মুখোমুখি হয় দুদল। সেখানে আবারও জয়ের হাসি বাংলাদেশের। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে সবগুলো সাফে খেলার কীর্তি গড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। কীর্তি গড়ার দিন দারুণ এক গোলও উপহার দেন বাংলার এই স্ট্রাইকার।

বয়সভিত্তিক আসরগুলোয় বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায় না ভুটান। সে তুলনায় জাতীয় দলের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। কাল ২-০ গোলের ব্যবধানের হার সে কথাই আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেয়। অবশ্য ভুটানের পারফরম্যান্স যত না ভালো ছিল, জিতলেও পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না বাংলাদেশের। বেশ কিছু গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে ছোটনের দল।

প্রথমার্ধে যার খেসারত গোলশূন্য থেকে মাঠ ছাড়। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মৌসুমি এগিয়ে নেন দলকে। ৪৭ মিনিটে মনিকা চাকমার কর্নারে জটলায় পাওয়া বল প্লেসিংয়ে জালে জড়ান মৌসুমি (১-০)। গোল খেয়ে মরিয়া ভুটান পরিশোধের চেষ্টা চালাতে থাকে। সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে শেষ পর্যন্ত হতাশায় পোড়ে দলটি। উল্টো ৮৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ভুটানের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান সাবিনা (২-০)। গোলের আনন্দে নেচে ওঠে লাল-সবুজরা। ম্যাচের বাকি সময় এই ব্যবধান ধরে রেখেই জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

জিতেও এ-গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে অবস্থান বাংলাদেশের। নেপালের সমান ৩ পয়েন্ট বাংলাদেশের। তবে গোলগড়ে এগিয়ে নেপাল। ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ কাল ৪-০ গোলের ব্যবধানে জিতলে পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। মাঠে নামার আগে সমীকরণও জানা ছিল। বাংলাদেশ জয় পেলেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। আগামীকাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে স্বাগতিক নেপালকে মোকাবিলা করবে সাবিনারা।

সাফের বর্তমান রানার্সআপ বাংলাদেশ। গতবার ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এবার ছোটনের দলের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনালে ওঠা, যা ভুটানকে হারিয়ে ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে। এখন নেপাল ম্যাচে চোখ তাদের। ভুটানকে হারানোয় খুশি কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। খুশি অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের। সেটা করতে পারায় তৃপ্তির হাসি দলের। তবে এই হাসি টুর্নামেন্টের শেষ অবধি ধরে রাখার প্রত্যয় ছোটন-সাবিনাদের।