advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

সুস্থ বিনোদনের পথ রুদ্ধ করা যাবে না

১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ১১:৩৫

গত দুই দশকে দৃশ্যশ্রাব্য মাধ্যমের অনেক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটলেও এখনো পর্যন্ত আমজনতার বিনোদনের প্রধান মাধ্যম চলচ্চিত্র। হোম থিয়েটার, ইউটিউব বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন ডিভাইসে সিনেমা দেখার সুযোগ থাকলেও সারাবিশ্বে প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র উপভোগের ঐতিহ্য এখনো অটুট আছে।

প্রতিবেশী ভারতবর্ষে প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনা ব্যবহারের সুযোগ বাড়া সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে সপরিবারে সিনেমা উপভোগে কোনো ছেদ পড়েনি। এটিই আমমানুষের বিনোদনের প্রধান উৎস। বাংলাদেশে নানা মহলের চাপ, চাহিদা পূরণে দেশীয় চলচ্চিত্রের ব্যর্থতা এবং নতুন প্রযুক্তির আগ্রাসন মিলে বহুদিন ধরে সমগ্র চলচ্চিত্রশিল্প রুগ্নতায় ভুগছে। কিছুকাল ধরে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ছবি দিয়ে বাজার কিছুটা চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাও তেমন কার্যকর হচ্ছে না।

ইতোমধ্যে এই খরার কবলে পড়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা বারোশ থেকে নেমে মাত্র পৌনে দুইশতে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই ১৬ কোটি মানুষের দেশে বারোশ সিনেমা হল অপ্রতুল, কয়েকটি অত্যাধুনিক এবং উচ্চমূল্যের সিনেপ্লেক্স ছাড়া দেশে সিনেমার পাবলিক স্পেস বন্ধ হয়ে যাবেÑ এটি সামগ্রিক বিবেচনায় আশঙ্কার বিষয়। দেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি মূলত বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির নীতিমালা সহজ করা ও দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাণ বাড়ানোর দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে।

তারা বলেছে, এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ না নিলে তারা ১২ এপ্রিল থেকে সব সিনেমা হল বন্ধ করে দেবে। তারা ইতোমধ্যে তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি জানিয়েছে। দেশে বছরে মাত্র ৩০-৩৫টি ছবি নির্মিত হচ্ছে। তা ছাড়া দেশের বাজারে দীর্ঘদিন বিদেশি ভালো চলচ্চিত্র আসে না বলে প্রতিযোগিতার অভাবে আমাদের চলচ্চিত্রের মানও নিম্নগামী। আবার ভালো ছবির অভাবে মানুষ হলে যাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও প্রদর্শন মানও নেমে গেছে। তাতে ব্যবসা আরও সংকুচিত হচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক ও শিল্পী সমিতির সমঝোতারও ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু উভয়ের দাবি ও চাহিদার সমন্বয় ছাড়া সমস্যার সমাধান কঠিন হবে। তবে এ সূত্রে আমরা বলব, সুস্থ বিনোদনের অভাব ঘটলে সমাজে অন্যান্য নেশাদ্রব্যের ব্যবহার বাড়ে। বাংলাদেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক হারে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সেবন এবং বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার ঝোঁক বাড়ার পেছনে সুস্থ বিনোদনের অভাব অন্যতম কারণ। সেদিক থেকে গণপরিসরে সুস্থ বিনোদনের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম চলচ্চিত্রের প্রদর্শনকে বাধামুক্ত করতে হবে।

দেশীয় চলচ্চিত্র ও প্রযোজক-পরিচালক-শিল্পীদের স্বার্থ রক্ষা করেই এ শিল্পকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আর এ ক্ষেত্রে ভোক্তার চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হবে। তাদের কাছে সুস্থ বিনোদন খোঁজার মাধ্যম হলো প্রেক্ষাগৃহ। আশা করি, সরকার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। সমাজকে ইয়াবা ও অন্যান্য মরণ নেশার কবল থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি হতে পারে একটি জোরালো পদক্ষেপ।