advertisement
advertisement

হিসাবের স্বচ্ছতা থাকতে হবে

১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০৯
রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আনা অনুদানের অর্থের ৭৫ শতাংশই নিজেদের খরচে ব্যবহার করেছে বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও)। গত বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অবস্থাটা এমনই যে, গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত এনজিওগুলো আবাসিক হোটেলগুলোর বিলই দিয়েছে দেড়শ কোটি টাকার ওপর। এ ছাড়া ফ্ল্যাট ও বাসাভাড়া দিয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক মাসের মধ্যে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ সাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি ইউএনএইচসিআরসহ বিদেশি বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে। মূলত রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি তহবিল পাওয়া এনজিওগুলো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসবের মধ্যে রয়েছে খাদ্য এবং স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বাথরুম ও নলকূপ স্থাপন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, কম্বল বা কাপড় বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও গৃহস্থালি দ্রব্যাদি বিতরণ। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক এনজিও তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছে না। ওই অর্থে বিলাসিতা করছেন কর্মকর্তারা। আমরা মনে করি, দেশের এনজিও সেক্টরে কঠোরভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। মানবসেবার কথা বলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের ভাগ্যোন্নয়ন এভাবে চলতে পারে না। এনজিওগুলোর আয়-ব্যয় হিসাবেরও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কোথা থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে, এদিকেও কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দিতে হবে। এনজিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও এসব সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গারা কতটা উপকৃত হয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া দরকার। আবার এনজিও প্রতিষ্ঠা ও এর বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, এটিও নিশ্চিত করতে হবে।